সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের দমনে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ চললেও কাটছে না জনমণের আতঙ্ক। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও খুনাখুনি, গুলি বা বোমার শব্দে বিঘ্নিত হচ্ছে জননিরাপত্তা। বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯টি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তপশিল ঘোষণার পরদিনই রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর এক মাস কাটতে না কাটতেই গত বুধবার রাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে একইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া গত সোমবার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে যশোর, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ গতকালও গাজীপুরে এনসিপি কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই নাজুক অবস্থার পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ৫ আগস্টের পর লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, ৫ হাজার ৭৬৩টি অস্ত্রের মধ্যে এখনো ১ হাজার ৫০০টি অস্ত্র এবং ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৬টি গুলির কোনো হদিস নেই। পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় কারাগার থেকে পালানো ৭১০ জন দুর্ধর্ষ বন্দি এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় অপরাধের মাত্রা বাড়ছে।
সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা এ প্রসঙ্গে বলেন, “অস্ত্র ও গোলাবারুদ কোথায় আছে সে ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি আছে। রক্তক্ষয়ী এক অভ্যুত্থানের পর এবারের নির্বাচনি পরিস্থিতি অন্য সময়ের চেয়ে ভিন্ন ও চ্যালেঞ্জিং।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর আস্থা রাখতে না পেরে অনেক প্রার্থী এখন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। সম্প্রতি গোপালগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী এস এম জিলানীর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাকে জনসভায় বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে অংশ নিতে দেখা গেছে। জীবনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, গত ২৬ দিনে তারা ২ শতাধিক অস্ত্রসহ ১৫ হাজার অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে। ডিআইজি (অপারেশন্স) মো. রেজাউল করিম জানান, অস্ত্র উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং নির্বাচন ঘনিয়ে আসার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান সক্রিয়তা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হকের মতে, “নির্বাচনের মতো বড় রাজনৈতিক ঘটনার সঙ্গে অপরাধের গভীর সংযোগ থাকে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে ভোটের মাঠে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
–এম. এইচ. মামুন










