আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যদি মাঠ প্রশাসনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে করে, তবে সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ।
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বা অভিমতকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দল মাঠ প্রশাসনের বেশ কয়েকজন ডিসিকে রদবদলের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে। নির্বাচনের আর মাত্র মাসখানেক বাকি থাকতে এই রদবদল সম্ভব কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “আমরা নিজ থেকে রদবদলের কথা বলছি না। তবে নির্বাচন কমিশন যদি কনভিন্সড হয় এবং তারা যদি মনে করেন যে রদবদলের প্রয়োজন, তবে তারা আমাদের বলবেন। তখন আমরা তা বিবেচনা করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। তবে এর আগে তাদের সন্তুষ্ট হওয়া জরুরি।”
মাঠ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, “এখন পর্যন্ত আমি বড় ধরনের কোনো বিচ্যুতি দেখিনি। কোনো কোনো সিদ্ধান্তে কেউ কেউ অসন্তুষ্ট হতে পারেন, এটা স্বাভাবিক। যেহেতু সব প্রার্থীর পরিস্থিতি এক রকম ছিল না, তাই কিছু পরিবর্তনের সুর শোনা যেতেই পারে।” তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যদি কোনো সিদ্ধান্ত ভুল হয়ে থাকে, তবে সেখানে আইনিভাবে আপিলের সুযোগ রয়েছে এবং বর্তমানে অনেক প্রার্থী সেই সুযোগ গ্রহণ করছেন।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ সম্পর্কে সচিব বলেন, “এই ধরনের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। কেউ সংক্ষুব্ধ হলে সাধারণত এ ধরনের কথা বলে থাকেন। তবে এখন উন্মুক্ত তথ্যপ্রবাহের যুগ, কোনো কিছু লুকিয়ে রাখার সুযোগ নেই।” তিনি আশ্বাস দেন যে, প্রশাসনে কোনো ত্রুটি থাকলে তা গুরুত্বের সাথে দেখা হবে এবং প্রতিটি বিষয় ‘মেরিট’ বা যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচার করা হবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসকরাই রিটার্নিং অফিসার হিসেবে মূল দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নিরপেক্ষতা ও কর্মদক্ষতার ওপরই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের সর্বস্তরে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
-এম. এইচ. মামুন










