মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি
শীত যখন পাহাড়ি জনপদে নীরব দুর্যোগে রূপ নেয়, তখন সহমর্মিতাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় এমনই এক মানবিক উদ্যোগ নিয়ে শীতার্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বেতছড়ি একতা ফাউন্ডেশন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে সংগঠনটি দীঘিনালার একাধিক প্রত্যন্ত এলাকায় পর্যায়ক্রমে শীতবস্ত্র বিতরণ করে। এই কার্যক্রমে উপকৃত হয়েছেন দরিদ্র, বিধবা, প্রবীণসহ পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় জনগোষ্ঠীর শতাধিক মানুষ।
চলমান শৈত্যপ্রবাহে দীঘিনালার দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভোরের কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে কাজ হারাচ্ছেন দিনমজুররা, আর পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে বিপাকে পড়ছেন শিশু ও বয়স্করা। এই প্রেক্ষাপটে বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে বড় ভূমিকা রাখছে।
বেতছড়ি একতা ফাউন্ডেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয় বেতছড়ি এলাকা থেকে। এরপর মধ্য বোয়ালখালী মানবিক যুবসমাজের সহযোগিতায় মধ্য বোয়ালখালী গ্রাম, কবাখালী উত্তর মিলনপুর এবং সর্বশেষ মেরুং ইউনিয়নের চংগাছড়ি এলাকায় কম্বল বিতরণ করা হয়। প্রতিটি এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বেতছড়ি একতা ফাউন্ডেশন কেবল শীতকালীন সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়। সংগঠনটি নিয়মিতভাবে অসুস্থ ও ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য বিতরণ ও জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। এ ধারাবাহিকতাই সংগঠনটির প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি করেছে।
কম্বল বিতরণকালে বেতছড়ি একতা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মোঃ আল আমিন বলেন-
মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সংগঠনের মূল দর্শন। পাহাড়ে শীত মানেই কষ্ট—এই কষ্ট ভাগ করে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।
কোষাধ্যক্ষ জাকির হোসেন বলেন, এই সহায়তা সামান্য হলেও অসহায় মানুষের জন্য বড় স্বস্তি। সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা পেলে আমরা আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারব।
কম্বল পেয়ে অনেকেই জানান, এই সহায়তা তাদের জন্য শুধু প্রয়োজন নয়, বরং মানবিক সম্মানের বহিঃপ্রকাশ। কেউ কেউ বলেন, শীতের রাতে এই কম্বল তাদের নতুন করে বাঁচার সাহস দেবে।








