সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) নির্বিঘ্নে চালু রাখতে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৬১০ কোটি টাকার টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিকবিষয়ক সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগেও গত বছরের সেপ্টেম্বরে একই পদ্ধতিতে তিন মাসের জন্য ইপিআই টিকা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে ইপিআই কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই সব ভ্যাকসিন ইউনিসেফের মাধ্যমে সংগ্রহ বা ক্রয় করা হয়ে আসছে। এসব ভ্যাকসিন অত্যন্ত তাপ-সংবেদনশীল হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুযায়ী সংরক্ষণ ও মাননিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। ইউনিসেফের মাধ্যমে ক্রয় করলে মান বজায় থাকার পাশাপাশি তুলনামূলক কম দামে ভ্যাকসিন পাওয়া যায়।
এ প্রেক্ষিতে মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সব রুটিন ইপিআই ভ্যাকসিন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউনিসেফের মাধ্যমে কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রস্তাবে আরও জানানো হয়, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণের ১৭৫ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এখনও অব্যয়িত রয়েছে। এর মধ্যে থেকে ইপিআই টিকা ক্রয়ে ৪৯ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১০ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
বর্তমানে ইপিআইয়ের আওতায় দেশে ১০ ধরনের টিকা বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা বি, নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া, পোলিও, হাম ও রুবেলা। ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল এক বছরের কম বয়সী শিশুদের ছয়টি সংক্রামক রোগের টিকা দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ইপিআই কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে নতুন নতুন টিকা যুক্ত করা হয়।
ইউনিসেফ ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি)-এর সহায়তায় পরিচালিত এই কর্মসূচিকে বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম সফল স্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৯ সালে গ্যাভি বাংলাদেশকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
ইপিআই সহায়িকার তথ্যমতে, এই কর্মসূচি চালুর আগে দেশে প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখ শিশু ছয়টি সংক্রামক রোগে মারা যেত। নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের ফলে বর্তমানে এসব রোগে শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
আফরিনা সুলতানা/










