মাহমুদ কাওসার, নারায়ণগঞ্জ
মান্নানে আতঙ্ক, গিয়াসে ঐক্য! নারায়ণগঞ্জ-৩ এ এক মঞ্চে গিয়াস–রেজাউল
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। পৃথক অবস্থান থেকে এবার একই বলয়ে আসছেন একাধিক প্রভাবশালী নেতা। এতে করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ ও শঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতার বক্তব্য অনুযায়ী,
সিদ্ধিরগঞ্জে একক প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন সোনারগাঁয়ের সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা অধ্যাপক রেজাউল করিমসহ একাধিক নেতা।
এক মঞ্চে গিয়াস–রেজাউল
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে থাকা গিয়াসউদ্দিনকে কেন্দ্র করে
সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ— উভয় অংশের একটি বড় অংশের নেতারা এখন সমন্বিতভাবে মাঠে নামছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় একাধিক নেতা জানান, সোনারগাঁয়ে অধ্যাপক রেজাউল করিমের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রভাব এবং সিদ্ধিরগঞ্জে গিয়াসউদ্দিনের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তি— এই দুই শক্তি একত্র হওয়ায় ভোটের সমীকরণ পাল্টে যাচ্ছে।
মান্নান শিবিরে চাপ বাড়ছে
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই জোটবদ্ধতা আজহারুল ইসলাম মান্নানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ মান্নানকে ঘিরে মাঠপর্যায়ে ইতোমধ্যেই বিভক্তি ও অনীহা স্পষ্ট।
একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা বলেন,
“গিয়াস সাহেবকে নিয়ে আগে দ্বিধা ছিল। এখন রেজাউল করিম সাহেব পাশে আসায় অনেকে প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছেন।”
ভোটের মাঠে নতুন হিসাব
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ— দুই অংশ মিলিয়ে ভোটার সংখ্যা বিপুল।
এই দুই এলাকার প্রভাবশালী নেতাদের একত্র হওয়া নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে,
সিদ্ধিরগঞ্জে সাংগঠনিক ভোট
সোনারগাঁয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব
এই দুই শক্তির সমন্বয় মান্নান শিবিরের জন্য বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে।
পর্যবেক্ষকদের মন্তব্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
দলীয় মনোনয়ন থাকলেও মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন হলে ফলাফলও ভিন্ন হতে পারে। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে এখন মূল লড়াই দল বনাম জোট নয়, বরং সংগঠন বনাম ঐক্য— এমনটাই মনে করছেন তারা।










