হিমালয়ের পাদদেশের জেলা দিনাজপুরে জেঁকে বসেছে শীত। এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর হিমশীতল বাতাসে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গত তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় দিনভর বৃষ্টির মতো ঝরছে শিশির।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ গত রোববারও তাপমাত্রা ছিল ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ১ জানুয়ারি থেকে জেলার তাপমাত্রা ৯ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় কাছাকাছি থাকায় ২৪ ঘণ্টাই তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।
তীব্র শীত ও কুয়াশায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার কৃষকরা। বিরল উপজেলার রানীপুকুর গ্রামের কৃষক মানিক হোসেন জানান, ঠান্ডার কারণে ক্ষেতে বেশিক্ষণ কাজ করা যাচ্ছে না। শৈত্যপ্রবাহের কারণে আলুর পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে, ফলে বাড়তি কীটনাশক স্প্রে করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বোরো বীজতলা নিয়েও বিপাকে চাষিরা। শৈত্যপ্রবাহ থেকে রক্ষা পেতে অনেকে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখছেন। সদরের গহাইর গ্রামের কৃষক আনোয়ার সাদাত জানান, বোরো চারা রোপণের উপযোগী হলেও হাড়কাঁপানো শীতের কারণে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্রমজীবী মানুষ। শহরের বাহাদুর বাজারের মাছ কাটার শ্রমিক আবুল হোসেন জানান, বরফ শীতল পানিতে কাজ করতে গিয়ে হাত অবশ হয়ে আসছে। এতে কাজ ধীর হওয়ায় আয় কমে গেছে তার। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুও শীতের তীব্রতায় কাহিল হয়ে পড়েছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, দেশে যে কয়েকটি জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে, দিনাজপুর তার অন্যতম। আকাশ মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় সূর্যের উত্তাপ মিলছে না। তিনি আরও সতর্ক করে জানান, আগামী কয়েক দিনে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।