ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে জমা দেওয়া তার হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ৬ বছরে তার বার্ষিক আয় বেড়েছে ২২ গুণেরও বেশি।
আয় ও সম্পদের বিবরণ: ২০২৫ সালের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী রুমিন ফারহানার বার্ষিক আয় প্রায় ৯৭ লাখ টাকা। অথচ ২০১৯ সালে একাদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে জমা দেওয়া হলফনামায় তার বার্ষিক আয় ছিল মাত্র ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। অর্থাৎ ৬ বছরের ব্যবধানে তার আয় প্রায় ২২.৩৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পেশায় সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবীর নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত আছে প্রায় ৩২ লাখ টাকা এবং স্বর্ণ রয়েছে ১০ ভরি। এছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে চট্টগ্রামে ৫ কাঠা জমি এবং ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক তিনি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুমিন ফারহানা নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে ২০ লাখ টাকা খরচ করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই অর্থের বড় একটি অংশ আসবে তার নিজস্ব তহবিল থেকে। এছাড়া ৫ লাখ টাকা তিনি তার প্রবাসী খালাতো ভাই গালিব মেহেদীর কাছ থেকে ধার নেবেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক থাকা রুমিন ফারহানা এবার দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোটে লড়ার ঘোষণা দেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিবকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থাকতে অনড় রয়েছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে তার এই স্বতন্ত্র প্রার্থিতা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের দলীয় পরিচয় ছাপিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি ভোটারদের কতটা আস্থায় নিতে পারেন।
-এম. এইচ. মামুন










