জাহাজের দুষ্প্রাপ্যতা ও স্থানীয় কারসাজিতে এলপিজি সংকট: সচিবালয়ে কড়া হুঁশিয়ারি

দেশে এলপি গ্যাসের চলমান সংকটের পেছনে বিশ্ববাজারে জাহাজের দুষ্প্রাপ্যতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতাদের কারসাজিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। একইসঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এলপিজি খাতের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংকটের নেপথ্যে বিশ্বরাজনীতি ও জাহাজ সংকট
বৈঠক শেষে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, বৈশ্বিকভাবে বিভিন্ন দেশ একে অপরের ওপর বিধিনিষেধ (Sanctions) আরোপ করায় বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে এলপিজি অপারেটররা যথাসময়ে জাহাজ পাচ্ছেন না, যা আমদানিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “জাহাজের এই দুষ্প্রাপ্যতাই বর্তমানে এলপিজি সংকটের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক কারণ।”

আমদানি পর্যাপ্ত হলেও বাজারে কৃত্রিম সংকট
যুগ্ম সচিব জানান, গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে যে পরিমাণ এলপিজি আমদানি করা হয়েছে, তাতে বাজারে বড় কোনো সংকট হওয়ার কথা নয়। তবে মাঠ পর্যায়ে কিছু সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা শুধু অপারেটরদের নিয়োগ দিই। এরপর ফ্র্যাঞ্চাইজি, ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার ও রিটেইলার—বিভিন্ন পর্যায়ে কারসাজি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে।” যারা আমদানিতে সক্রিয় নয়, তাদের পরিবর্তে অন্যদের সুযোগ দিয়ে সংকট কাটানোর পরিকল্পনাও করছে সরকার।

ব্যবসায়ীদের দাবি ও সরকারের আশ্বাস
এলপিজি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক সমিতি ‘লোয়াব’ এবং অপারেটররা বৈঠকে এলসি (LC) খোলার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এলসি খোলার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা এবং আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট হ্রাসের দাবি জানান। এ বিষয়ে এনবিআর-এর সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং বিষয়টি উপদেষ্টা কমিটিতেও তোলা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

তদারকিতে বিশেষ ব্যবস্থা
বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) প্রতি মাসে একটি নিয়মিত রিপোর্ট এবং প্রয়োজনে তিন মাসের আগাম রিপোর্ট প্রদান করতে বলা হয়েছে। এর ফলে সরকার আগে থেকেই বাজারের সম্ভাব্য পরিস্থিতি বুঝতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

যুগ্ম সচিব আরও যোগ করেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনকে আমরা জানিয়েছি যেন বাজারে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে। যারা আইন ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বৈঠকে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান এবং এলপিজি খাতের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।