কুয়াশার চাদরে ঢাকা গাইবান্ধা: হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন

কনকনে ঠান্ডা আর হাড়কাঁপানো হিমেল হাওয়ায় আবারও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাইবান্ধার জনজীবন। গত দুদিন ধরে জেলাজুড়ে সূর্যের দেখা মেলেনি। দিনভর কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে প্রকৃতি, আর তার সঙ্গে যোগ হওয়া উত্তুরে হাওয়া শীতের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
তাপমাত্রা ও আবহাওয়া পরিস্থিতি রংপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, আজ রোববার গাইবান্ধায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান জানান, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকা এবং কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারছে না, ফলে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।
কৃষকের ভোগান্তি ও থমকে যাওয়া জনপদ এখন বোরো ধান রোপণের ভরা মৌসুম। কিন্তু তীব্র শীত ও হিমশীতল পানির কারণে মাঠে নামতে পারছেন না কৃষকরা। সদর উপজেলার থানাপাড়া এলাকার কৃষক ইব্রাহিম খলিল বলেন, “জমির পানিতে নামলে মনে হচ্ছে বরফ হয়ে আছে। শরীর জমে যায়, ঠিকমতো চারা রোপণ করতে পারছি না।”
একই দশা দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের। জীবিকার তাগিদে ভোরে ঘর থেকে বের হলেও ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসছে তাদের। শহরের ডেভিড কোম্পানিপাড়ার দিনমজুর আফজাল হোসেন জানান, দুদিন ধরে সূর্য না ওঠায় কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা স্থানীয়রা জানান, বেলা বাড়লে কুয়াশা কিছুটা কমলেও রাত বাড়ার সাথে সাথে বৃষ্টির মতো গুঁড়িগুঁড়ি কুয়াশা ঝরতে থাকে। এর সঙ্গে হিমেল বাতাসের ঝাপটায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ছিন্নমূল মানুষ। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের দৃশ্য এখন জেলার গ্রাম ও শহরতলীতে নিত্যনৈমিত্তিক।
প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় শীতবস্ত্রের ব্যাপক সংকট রয়েছে বলে জানা গেছে
-লামিয়া আক্তার