কনকনে ঠান্ডায় উষ্ণতার জন্য কোট ফ্যাশন হিসেবে নারীকে করে তুলুক অনন্যা

জানুয়ারি মাস শুরু এখন জমিয়ে ঠান্ডা পড়েছে। আমাদের দেশে কনকনে ঠান্ডায় বিয়েসহ বিভিন্ন উৎসবের কমতি নেই। মেলা, পার্টি, বেড়ানো, সঙ্গীতানুষ্ঠানে আনন্দ উৎসবে নিজেকে সাজাতে পারবেন রকমারি কোট দিয়ে।

উৎসব অনুযায়ী সবাই বিভিন্ন রকমের সাজপোশাকে নিজেকে সাজান। কিন্তু শীতে পরিহিত সুন্দর পোশাকটির উপরে শীত নিবারণের জন্য  কোন শীতের পোশাকটি পরা যায় বা পরলে মানানসই হবে তা অনেকেই বুঝতে পারেনা।  এমন ভাবনাই কাজ করে বহু মহিলার মনেই। তাই দেখা যায়, সুন্দর পোশাক পরে কাঁপতে কাঁপতে অনেকে পার্টি করছেন, পাছে সাজ-সৌন্দর্য শীত পোশাকে ঢেকে যায়।

তবে এমন ভাবনাই বদলাতে পারেন এ বার। শীতের দোসর হোক কেতাদুরস্ত কোট। রকমারি কোটই দেখাতে পারে জাদু। শীতে সময় অনুষ্ঠানগুলোতে সকলের নজর কাড়বে কোট পরিহিত নারীই। জেনে নেওয়া যাক কোন কোন কোট পরা যায়-

উলের ওভারকোট

উলের ওভারকোট তৈরি করা হয় উলের সূক্ষ সুতো দিয়ে এবং এর বুনন এতটাই নিখুঁত যে উলের তা বোঝা যায় না ‘ফিনিশিং’ খুব নিখুঁত। ওভারকোট হাঁটুর উপর, হাঁটু পর্যন্ত এবং লম্বা ঝুল হতে পারে।পার্টির দিনে যদি আঁটোসাঁটো খাটো পোশাকও পরেন, তার সঙ্গে হালকা বা গাঢ়রঙা ওভারকোট পরতে পারেন।

উলের ওভারকোট হলো শীতের পোশাক যা উষ্ণতা, স্টাইল ও আভিজাত্য প্রদান করে, যা মূলত উল বা উলের মিশ্রণে তৈরি হয় এবং এটি ফরমাল ও ক্যাজুয়াল উভয় ধরনের পোশাকের সাথে পরা যায়। এই কোটগুলো সাধারণত লম্বা, ল্যাপেল কলার, বাটন বা বোতামের ফন্ট এবং পকেটের মতো বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয়, যা ঠান্ডা আবহাওয়ায় আরাম এবং ফ্যাশন নিশ্চিত করে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের উলের ওভারকোট পাওয়া যায়, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ডিজাইনের হয়। 

ট্রেঞ্চ কোট

লো একটি ক্লাসিক, দীর্ঘ, ওয়াটারপ্রুভ ওভারকোট যা সাধারণত গ্যাবার্ডিন কাপড় দিয়ে তৈরি হয় এবং এর বৈশিষ্ট্য হলো ডাবল-ব্রেস্টেড বোতাম, বেল্ট এবং বড় কলার; এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈনিকদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল এবং বর্তমানে ফ্যাশনে একটি আইকনিক পোশাক হিসেবে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্যই জনপ্রিয়, যা বিভিন্ন স্টাইলে পরা যায়। 

হাঁটু পর্যন্ত বা তার চেয়েও লম্বা ঝুলের হয় ট্রেঞ্চ কোট। উৎসব, পার্টির দিনে পরার জন্য বেশ মানানসই। উজ্জ্বলরঙা ট্রেঞ্চ কোটগুলি একটু হালকা ধরনের হয়। ওভারকোট যেমন একটু বড় এবং ভারী হয়, ট্রেঞ্চ কোট তেমনটা নয়। বরং এটা বেশ ফ্যাশন-দুরস্ত। অনেক ট্রেঞ্চ কোটে কোমরে বাঁধার ফিতে থাকে। হাইনেক পোশাকের সঙ্গে কোমরে ফিতে দেওয়া ট্রেঞ্চ কোট বেশ মানানসই হবে। তা ছাড়া ট্রেঞ্চ কোটের সুবিধা হল, বরফের জায়গায় গেলে বা ঝিরঝিরে বৃষ্টি হলে ভিতরের পোশাক চট করে ভিজে যাবে না।

পাফার কোট

শীত-ফ্যাশনে সঙ্গে থাকুক পাফার কোট। পাফার কোট হলো এক ধরনের গরম জ্যাকেট যা ভেতরে তুলতুলে প্যাডিং (যেমন ডাউন বা সিন্থেটিক ফাইবার) দিয়ে তৈরি। সাধারণত পলিয়েস্টার বা নাইলনের বাইরের অংশ এবং ডাউন (হাঁস-মুরগির পালক) বা সিন্থেটিক ফাইবার (যেমন পলিয়েস্টার) ভেতরের প্যাডিং হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যার কারণে এটি দেখতে ফোলা ফোলা বা ‘পাফড’ লাগে এবং তীব্র শীতে শরীরকে উষ্ণ রাখতে অত্যন্ত কার্যকর; এটি বিভিন্ন স্টাইল, রঙ, দৈর্ঘ্য ও নকশায় পাওয়া যায়। এতে কুইল্টেড বা সেলাই করা প্যাটার্ন থাকে এবং হুড, পকেট, জিপার, বা ফ্লি-লাইনিং-এর মতো বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। এটি শর্ট, লং, ক্রপড, ওভারসাইজড হিসেবেও পাওয়া যায়। 

ফার কোট

ফার কোট হলো পশুর চামড়া বা কৃত্রিম লোম দিয়ে তৈরি এক ধরনের গরম পোশাক, যা শীতকালে উষ্ণতা এবং ফ্যাশনের জন্য পরা হয়; এটি বিভিন্ন ধরনের প্রাণীজ পশম (যেমন খরগোশ, শিয়াল, মিঙ্ক) বা সিন্থেটিক উপাদান ব্যবহার করে তৈরি হতে পারে এবং আজকাল কৃত্রিম পশমের ফার কোট বেশ জনপ্রিয়, যা দেখতে ও অনুভবে আসল পশমের মতোই লাগে কিন্তু এবং দামে সাশ্রয়ী। ফারের ফোলা, লোমওয়ালা কোটগুলিও কিন্তু বেড়ানো বা পার্টি— দুইয়ের জন্যই ভাল হতে পারে। লাল, গোলাপি, সাদা— নানা রঙের ফারের কোট হয়। এমন কোট পরে কী ভাবে সাজতে হয়, তা কিন্তু বলিউড অভিনেত্রীদের দেখেও শেখা যায়। ফারের কোটের সঙ্গে একই রঙের টুপি এবং জুতোও পরতে পারেন।

বেল্ট দেওয়া লং কোট

বেল্ট দেওয়া লং কোটও যদি পরনে থাকে, শীতের দিনে নজরকাড়া হয়ে উঠতে পারবেন আপনি। শহরেই ঘোরাঘুরি হোক বা দূরে বেড়াতে যাওয়া— কনকনে ঠান্ডায় উষ্ণতার পরশ এনে দেবে বেল্ট দেওয়া লম্বা কোটটি। দেখতে খানিক ট্রেঞ্চ কোটের মতোই। তবে এটি দৈর্ঘ্যে লম্বা হয়।

সাবিনা নাঈম