তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আভাস, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে

পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। টানা তিন দিন ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু সারাদেশ। আজ শনিবারও দেশের কোথাও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি; ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে পথঘাট। এর মধ্যেই আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে এক দুঃসংবাদ—আগামী ৬ জানুয়ারি থেকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘন কুয়াশার কারণে আকাশপথ থেকে শুরু করে সড়ক ও নৌ-যোগাযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। গতকাল সকালে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পেরে ৯টি ফ্লাইট চট্টগ্রাম, কলকাতা ও ব্যাংককে ডাইভার্ট করা হয়েছে। মহাসড়কগুলোতে কুয়াশার কারণে একাধিক ছোট-বড় দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া দপ্তর থেকে চালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া ও বরিশালসহ অন্তত ১৬টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে দেশে ৫টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে অন্তত দুটি হতে পারে তীব্র (৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।

উত্তরের হিমেল হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে। একদিকে কুয়াশা আর অন্যদিকে কনকনে বাতাসে শ্রমজীবী মানুষের আয় কমে গেছে। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ৬ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করায় কুয়াশার দাপট দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও আকাশ মেঘলা থাকতে পারে এবং ৫ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাস অনুযায়ী তাপমাত্রা আরও কমার ইঙ্গিত রয়েছে।

-এম. এইচ. মামুন