সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই নবম জাতীয় বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গ্রেড সংখ্যা নির্ধারণ ও বেতনবৈষম্য কমানোর মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কমিশন।
তবে গ্রেড সংখ্যা নির্ধারণ ও বেতনবৈষম্য কমানোর মতো স্পর্শকাতর কয়েকটি বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় কমিশনের কাজ চলছে পুরোদমে। পে-কমিশনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নবম পে-স্কেলে গ্রেড কতটি হবে এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত নির্ধারণ করা হবে এসব বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে এখনো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এসব অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তিতে অন্তত আরও দুটি পূর্ণাঙ্গ কমিশন সভার প্রয়োজন হবে। সব সদস্যের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করা হবে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড রাখা হবে নাকি কমিয়ে আনা হবে—তা নিয়ে সদস্যদের মধ্যে তিন ধরনের মতভেদ রয়েছে।
প্রথম পক্ষ: বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে কেবল বেতন-ভাতা বাড়ানোর পক্ষে।
দ্বিতীয় পক্ষ: বৈষম্য কমাতে গ্রেড সংখ্যা ১৬টিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছেন।
তৃতীয় পক্ষ: প্রকৃত ও টেকসই বেতনবৈষম্য দূর করতে গ্রেড সংখ্যা ১৪টিতে আনার পক্ষে মত দিচ্ছেন।
এই গ্রেড সংখ্যা নির্ধারণই এখন কমিশনের আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে। আগামী দুটি পূর্ণাঙ্গ সভায় এই বিষয়ে ঐকমত্য পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিশনের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আলোকিত স্বদেশকে জানিয়েছেন, আগামী ১৫ জানুয়ারির (মধ্য জানুয়ারি) মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার একটি প্রচ্ছন্ন সময়সীমা রয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এর আগেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন থেকে আসা শত শত প্রস্তাব বিশ্লেষণ করছে কমিশন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন বছরের শুরুতেই যদি কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেয়, তবে তা হবে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় একটি উপহার। প্রতিবেদনের প্রাথমিক কাজ চললেও প্রতিটি প্রস্তাব খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের অসঙ্গতি না থাকে। এখন সবার দৃষ্টি কমিশনের পরবর্তী সভার দিকে, যেখানে বেতন ও গ্রেড কাঠামোর চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারিত হবে।
-এম. এইচ. মামুন










