চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার দুই শিশুর বাবা আটক, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে শিশুরা

ছবি: সমকাল

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর বাবা মো. খোরশেদ আলমকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া দুই শিশু জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক খোরশেদ আলমের বয়স ৩৫ বছর। তিনি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের মহামনি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রীর বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মৌলভীর দোকান এলাকায়। পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রী তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে দাবি করেছেন খোরশেদ। পরে তিনি বাঁশখালীর মিয়ারবাজার লস্করপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

খোরশেদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে নিখোঁজ হন। এ সময় তিনি ঘরের কিছু জিনিসপত্র ও প্রায় ১৮ হাজার টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সন্তানদের কোনো খোঁজ পাননি খোরশেদ। তার আরও অভিযোগ, স্ত্রী শিশুদের দিয়ে ভিক্ষা করাতেন।

উল্লেখ্য, গত রবিবার রাতে আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা এলাকায় রাস্তার পাশে কনকনে শীতের মধ্যে দুই শিশুকে বসে থাকতে দেখেন একজন অটোরিকশাচালক। তিনি শিশু দুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আশ্রয় দেন। শিশু দুটি চার বছর বয়সী আয়েশা আক্তার ও তার ১৪ মাস বয়সী ভাই মোরশেদ। ওই ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা জানান, ছোট শিশুটির জন্মগত কিছু শারীরিক জটিলতা রয়েছে এবং বড় শিশুটি চর্মরোগে আক্রান্ত।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শিশুদের বাবাকে শনাক্ত ও আটক করা হয়েছে। তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, শিশুদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাবা সন্তানদের নিয়ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও তিনি জানান।

সাবরিনা রিমি/