দীর্ঘদিন পর নিজের ব্যক্তিজীবনের এক সংবেদনশীল অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন অভিনেত্রী ও ফিটনেস আইকন মালাইকা আরোরা। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার বিবাহবিচ্ছেদ, সেই সময় পাওয়া সামাজিক বিচার-বিশ্লেষণ এবং শেষ পর্যন্ত নিজেকেই বেছে নেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্তের গল্প তুলে ধরেন। তার কথায় উঠে আসে সাহস, আত্মসম্মান এবং নারীর নিজের সুখকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রশ্ন।
মালাইকা আরোরা ও অভিনেতা-প্রযোজক আরবাজ খান প্রায় দুই দশক দাম্পত্য জীবনে ছিলেন। ২০১৭ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এই দাম্পত্য জীবনের ফল তাদের একমাত্র সন্তান আরহান খান, যার বয়স এখন ২৩ বছর। বিচ্ছেদের সময় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও, এত বছর পর মালাইকা জানালেন সেই অধ্যায়টি তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি ছিল।
সব চাপের মাঝেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন মালাইকা। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা ছিল না। তবুও তিনি জানতেন, নিজের সুখের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা জরুরি। সমাজ এখনো নারীদের কাছ থেকে ত্যাগ আর সমঝোতার প্রত্যাশা করে বলেও মনে করেন তিনি; কিন্তু মালাইকা স্পষ্টভাবে জানান, তিনি নিজেকেই বেছে নিয়েছিলেন—এবং আজ সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই।
সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মালাইকা বলেন, সমালোচনা শুধু বাইরের মানুষদের কাছ থেকেই আসেনি। তার ভাষায়, ‘চারপাশের সবাই আমাকে বিচার করেছিল—সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আমার নিজের বন্ধু ও পরিবারও এর বাইরে ছিল না।’ প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, কেন তিনি এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পথ বেছে নিয়েছেন, তা অনেকেই বুঝতে চাননি।
এই অভিজ্ঞতা তাকে ভালোবাসা বা সম্পর্ক নিয়ে তিক্ত করে তোলেনি। বরং তিনি এখনো ভালোবাসা ও সঙ্গীর ওপর বিশ্বাস রাখেন। দ্বিতীয় বিয়ে প্রসঙ্গে মালাইকার বক্তব্য, ‘কখনোই না বলা যায় না।’ তবে তিনি জানান, বিয়ের পেছনে দৌড়ানো তার লক্ষ্য নয়। জীবন উপভোগ করা, ভালোবাসাকে সম্মান করা এবং সময় এলে সম্পর্ককে যত্ন করাই এখন তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিথী রানী মণ্ডল/










