আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৩ (সদর) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। হঠাৎ করেই সেই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন বিএনপির নেতা ও দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। এ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানও দিয়েছেন। তবে মনোনয়নপত্র ক্রয়ের বিষয়টি হাই কমান্ডের নির্দেশে নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদের যে নাম ঘোষণা করা হয়, সেই ঘোষণায় দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে প্রার্থী হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়। সেই সময় থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উল্লাস দেখা দেয়। তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল, খালেদা জিয়া এই আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন। আর বিজয়ী হওয়ার পর এই জেলার ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলেও আশা ছিল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে।
তবে, হঠাৎ করেই রোববার দুপুরে একই আসন অর্থাৎ দিনাজপুর-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর পৌরসভার টানা তিনবারের মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। রোববার দুপুর পৌনে ২টার দিকে তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূর-ই-আলম সিদ্দিকীর কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় জেলা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক মামুনুর রশিদ কচি, সাবেক পৌর কাউন্সিলর রেহাতুল ইসলাম, মতিবুর রহমান বিপ্লবসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার টিপসই নিয়ে এই মনোনয়নপত্র জমা দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি। মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। এ সময় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোকাররম হোসেন, খালেকুজ্জামান বাবু, মাহাবুব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনা হেনা হিরা, আনিসুল হক বাদশা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা শেষে সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি বলেন, ‘এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখবো যে আসলে বিষয়টি কি আমাদের দায়িত্ব, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া, আমরা আমাদের দায়িত্বটুকু পালন করতে এসেছি।’
দিনাজপুর-৩ আসন থেকে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া। তার শৈশব কেটেছে এই জেলাতে। এই জেলাতেই তার বেড়ে ওঠা, এই জেলাতেই পড়াশোনা। এর আগে, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রার্থীতা করে জয় পেয়েছিলেন খালেদা জিয়ার বড় বোন প্রয়াত খুরশিদ জাহান হক। এবার বড় বোনের আসনেই প্রার্থী হয়েছেন খালেদা জিয়া।










