আলু নিয়ে বিপাকে চাষি ও হিমাগার মালিকরা

রাজশাহীতে উঠতে শুরু করেছে আগাম জাতের নতুন আলু। জেলার হাটবাজারে ক্রেতারা নতুন আলু কিনছেন ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে। নতুন আলু বাজারে আসায় কেনাবেচা প্রায় বন্ধ পুরোনো আলু। আড়তদার ও পাইকারি আলু ব্যবসায়ীরা বলছেন, পুরোনো আলু কেউ কিনছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহীর ৩৯টি হিমাগারে এখনো ৪৫ হাজার টন পুরোনো আলু মজুত থেকে গেছে।

আলু আহরণ মৌসুমে যেসব ব্যবসায়ী ও চাষি বেশি দামের আশায় হিমাগারে আলু রেখেছিলেন তারা এখন আর হিমাগারমুখী হচ্ছেন না। তারা সংরক্ষিত আলু তুলছেনও না। হিমাগার ভাড়ার টাকাও পরিশোধ করছেন না কারণ আলু বেঁচে হিমাগার ভাড়া পরিশোধের চুক্তি আছে চাষিদের সঙ্গে। ফলে বিপাকে পড়েছে হিমাগার মালিকরাও। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে রাজশাহীর ৩৯টি হিমাগারে মজুত পুরোনো আলুর পরিমাণ প্রায় ৪৫ হাজার ১১০ টন। তাদের সংগৃহীত বাজার তথ্যানুযায়ী, নতুন আলু বাজারে আসার পর থেকে পুরোনো আলু হিমাগার ফটকে বেচাবিক্রি প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

রাজশাহীর বায়াতে অবস্থিত সরকার কোল্ড স্টোরেজের এক ব্যবস্থাপক জানান, তাদের হিমাগারে এখনো ১৩ হাজার ৫০০ বস্তা পুরোনো আলু পড়ে আছে। কয়েকদিন আগে ১১ টাকা কেজি দরে কিছু আলু বিক্রি হয়েছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহে কোনো ক্রেতা আসেনি। তানোরের রহমান কোল্ড স্টোরেজের কর্মী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আলু ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য আমরা মাইকিং করছি প্রতিদিন। কিন্তু চাষি বা ব্যবসায়ীরা কেউ আসছেন না।’

রাজশাহী কৃষি সস্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত মৌসুমে রাজশাহীতে আলু চাষ হয়েছিল ৪০ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল ১০ লাখ ১৩ হাজার টন। এবার চাষিরা আলু চাষ কমিয়ে দিয়েছেন।

মামুন/