সবুজ সার হিসাবে ধৈঞ্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শস্য, যা জমিতে চাষ করে সবুজ অবস্থায় মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়, যা মাটির উর্বরতা বাড়ায়, জৈব পদার্থ যোগান দেয়, নাইট্রোজেন সঞ্চিত করে এবং পরবর্তী ফসলের জন্য মাটিকে উপযোগী করে তোলে, বিশেষত ধান চাষে এটি অত্যন্ত উপকারী, কারণ এটি মাটি ক্ষয় রোধ করে ও আগাছা দমন করে। সর্বোত্তম ফলনের জন্য, ধৈঞ্চা ফুল আসার সময় (সাধারণত বপনের ৪৫-৬০ দিন পর) মাটিতে চাষ দিয়ে মিশিয়ে দিতে হয়।
সবুজ সারের উপকারীতা কি?
১. সবুজ সার মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে
২. সবুজ সার মাটিতে উপকারী জীবাণুর সংখ্যা
বৃদ্ধি করে
৩. সবুজ সার মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
৪. সবুজ সার মাটির বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সমূহ
জমা করে রাখে।
৫. সবুজ সার মাটির বাফার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
৬. সবুজ সার মাটির ক্ষয় রোধ করে
৭. সবুজ সার মাটির বিষাক্ততা হ্রাস করে
৮. সবুজ সার আগাছা রোধ করে
৯. সবুজ সার ব্যবহারের ফলে জমিতে ইউরিয়া
সার ব্যবহার করতে হয় না। হলেও খুব অল্প।
১০. সবুজ সার পরিবেশ বান্ধব এবং সহজলভ্য।
সবুজ সার হিসেবে ধৈঞ্চা!!
ধৈঞ্চা লিগিউম জাতীয় ছোট উদ্ভিদ। আমাদের
দেশে তিন প্রজাতি ধৈঞ্চা রয়েছে! যেমন:-
১. দেশি
২. বণ্য
৩. আফ্রিকান
দেশি জাতের এবং বণ্য
প্রজাতির ধৈঞ্চা এরা ভেজা,
ভারী, শুকনো এমনকি বালু মাটিতেও ভালোভাবে
জন্মাতে পারে। এটি গ্রাম নেগেটিভ রাইজোবিয়া
ব্যাকটেরিয়ার সাথে মিথোজীবী প্রক্রিয়ায়
বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেন শিকড়ের নডিউলে
জমা করে থাকে।
আধা জলজ সকল ধরনের
মাটিতে জন্মাতে পারে।
এটি গ্রাম নেগেটিভ রাইজোবিয়া ব্যাকটেরিয়ার
সাথে মিথোজীবী প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলের মুক্ত
নাইট্রোজেন কাণ্ডে ও শিকড়ের নডিউলে জমা
করে থাকে।
করে থাকে।
ধৈঞ্চা বীজ হার:
সাধারণ বিঘায় ৩ কেজি। কিন্তু সবুজ সার
হিসেবে ব্যবহারের জন্য ৫-৬ কেজি বীজ
বপন করা যেতে পারে
বীজ বপন:
জমি চাষ দিয়েও বপন কারা যায় আবার
সরাসরি মাটি ভেজা থাকা অবস্থায় পাকা ধানের
জমিতে ছিটিয়েও বপন করলেও সবুজ সার
হিসেবে ব্যবহার সম্ভব।
কখন সবুজ সার হিসেবে চাষ দিতে হবে:
ধৈঞ্চা বীজ বপনের ৭-৮ সাপ্তাহে গাছে ফুল
আসার সময় গাছ সর্বোচ্চ রসানো এবং নরম
থাকে এই সময়ে জমি ভেজা অবস্থায় চাষ দিয়ে
মাটিতে মিশিয়ে দিলে ৭-১০ দিনের মধ্যেই পচে
মাটিতে মিশে যাবে।
সবুজ সার মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার ১০-১৫
দিন পর চারা রোপণ করা যাবে।
পুষ্টি উপাদান (ধৈঞ্চার ক্ষেত্রে):
প্রতি এক টন ধৈঞ্চার সবুজ সারে নাইট্রোজেন(N)
থাকে ২.৫ কেজি যা ৫.৪ কেজি ইউরিয়ার সমান।
এছাড়াও প্রতি ১ টন সবুজ সারের ফসফরাস
থাকে(P) থাকে ০.৩ কেজি, পটাশিয়াম(K) ২ কেজি।
সবুজ সার হিসেবে ধৈঞ্চা ব্যবহারের ফলে বিঘায় ৩ থেকে ৪ টন পর্যন্ত জৈব সার মাটিতে সরবরাহ হবে।
মামুন/










