নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় বাল্কহেড দুর্ঘটনা, নিখোঁজ দুই শ্রমিক

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় শুক্রবার সকালে একটি নৌদুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় মাটিভর্তি নোঙর করা একটি বাল্কহেড আংশিকভাবে ডুবে যায়। এই ঘটনায় বাল্কহেডে থাকা পাঁচ শ্রমিকের মধ্যে দুইজন নিখোঁজ হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএ-এর সদস্যরা উদ্ধার কাজ শুরু করেছেন।

নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে নৌ-পুলিশ তৎপর হয়ে অভিযান চালাচ্ছে। পরিদর্শক আকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিখোঁজ শ্রমিকরা বাল্কহেডের ভেতরে আটকা পড়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করতে বাল্কহেডকে টেনে তুলতে হবে এবং লোহা কেটে প্রস্থানপথ তৈরি করতে হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানিয়েছেন, উদ্ধার কাজ দ্রুত করতে হবে যাতে নিখোঁজদের নিরাপদে বের করা যায়।

ফতুল্লার পাগলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক আকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, সকাল ৬টার দিকে মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকার দিকে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চ সুন্দরবন-১৬ নোঙর করা বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা খায়। ধাক্কায় বাল্কহেডটি আংশিকভাবে ডুবে যায় এবং এতে থাকা পাঁচ শ্রমিকের মধ্যে দুজন নিখোঁজ হন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় বাল্কহেডটি নৌপথে স্থির ছিল এবং লঞ্চের তীব্র ধাক্কায় তা অর্ধেক পানির নিচে চলে যায়।

নারায়ণগঞ্জ নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, বাল্কহেডের পাঁচ শ্রমিকের মধ্যে তিনজনকে নিরাপদে তীরে আনা সম্ভব হয়েছে। বাল্কহেডটি উত্তোলনের পর নিখোঁজ দুই শ্রমিকের অবস্থান নিশ্চিত হবে এবং তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানা যাবে। এ দুর্ঘটনার ফলে নদীতে নৌপরিবহন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

দুর্ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং নদীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিথী রানী মণ্ডল/