ত্রিশালে ‘ভুয়া ডিবি’ পরিচয়ে ছাত্রদল নেতাকে অপহরণ চেষ্টা

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে রেজাউল করিম (৩২) নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতাকে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বীর রামপুর এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রেজাউল রামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সভাপতি।

ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে গফাকুড়ি বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন রেজাউল। পথে বীর রামপুর এলাকায় পৌঁছালে পাঁচজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁর পথরোধ করে। মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন তাঁকে মারধর করতে করতে পাশের একটি নির্জন মাঠের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে রেজাউল চিৎকার শুরু করেন। তাঁর চিৎকার শুনে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হতে থাকলে অবস্থা বেগতিক দেখে ভুয়া ডিবির দলটি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পালিয়ে যায়।

উদ্ধার ও হাতকড়া কর্তন: ঘটনার পর রেজাউলের পরিবার জেলা ডিবি ও ত্রিশাল থানায় যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয় যে, পুলিশের কোনো দল সেখানে অভিযানে যায়নি। পরে আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ত্রিশাল সদরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে পুলিশ হাতকড়াটি খোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যন্ত্র দিয়ে হাতকড়াটি কেটে রেজাউলকে মুক্ত করেন। বর্তমানে তিনি ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

পরিবার ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য: রেজাউলের বড় ভাই এনামুল করিম জানান, “হামলাকারীদের কাছে ওয়ারেন্ট বা পরিচয় জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। কোনো অস্ত্র বা ওয়াকিটকিও তাদের কাছে ছিল না। লোক জড়ো হতে দেখেই তারা দৌড়ে পালায়।”

আহত রেজাউল করিমের দাবি, গত ২৮ নভেম্বর ত্রিশাল আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে মিছিলে অংশ নেওয়ায় তাঁর ওপর এই পরিকল্পিত হামলা ও অপহরণের চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশের বক্তব্য: ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। হামলাকারীরা যে হাতকড়াটি ফেলে গেছে সেটি অনেক পুরোনো এবং এক সময় পুলিশে ব্যবহৃত হতো। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্বশত্রুতার জেরে ভুয়া ডিবি সেজে এই আক্রমণ করা হয়েছে। হাতকড়াটি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ভুক্তভোগীকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”