রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলিসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হিমন রহমান শিকদার (৩২) নামের ওই যুবক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আলমগীর শেখের সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, হিমন আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী। গতকাল বুধবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সহযোগীদের নিয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করার সময় ফয়সাল করিম মাসুদকে নিয়ে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন আলমগীর শেখ। গ্রেপ্তার হিমন আলমগীরের সহযোগী।
আদাবর থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে ডিএমপির ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ডিভিশন (আইএডি) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আদাবর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে হিমন রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদাবর থানার বাইতুল আমান হাউজিং এলাকার একটি বাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি তাজা গুলি, আতশবাজি, পটকা, বারুদ ও ককটেল তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তিনি প্রচার চালাচ্ছিলেন। ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেল থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাঁকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর মারা যান তিনি।
শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার পর ফয়সাল ও আলমগীর দেশ ত্যাগ করেন বলে তদন্ত–সংশ্লিষ্টক ব্যক্তিদের ভাষ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ফয়সাল ও আলমগীরকে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ঢাকা উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুরের একটি ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী)।
মামুন/মিয়াজি










