শীতকালে এই প্রাণঘাতী বার্ন ইনজুড়ির সংখ্যা অনেক বেশি বেড়ে যায়। এই সময় গরম পানির ব্যবহার অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার কারনে এবং ঠান্ডার কারণে খাবার বারবার গরম করা এরকম বিভিন্ন কারণে আগুনের অতিরিক্ত ব্যবহার হয়। গ্রামাঞ্চলে আগুন তাপাতে গিয়ে কাপড়ে আগুন লেগে এমন সমস্যা হতে পারে। পাশাপাশি চুলার আগুন, বৈদ্যুতিক গোলযোগ, বিড়ি-সিগারেট এর জলন্ত টুকরা থেকেও আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে। সাধারণত নারী, শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এমন হতে দেখা যায়। মানবদেহে ৪০ সে. পর্যন্ত তাপমাত্রা কিছু সময়ের জন্য সহ্য করতে পারে, এর চাইতে বেশি তাপে শরীরে বার্ন ইনজুরি হয়।
শীতকালে দুই ধরনের পোড়ার সবচেয়ে বেশি মুখোমুখি হই। একটি হলো ফ্লেম বার্ন বা আগুনে পোড়া। এক সময় এসিড বার্ন আমাদের অনেক ছিল। এখন অনেকটাই কমে এসেছে। বার্ন বিভিন্নভাবে হতে পারে, যেমন:
শরীরের চামড়ার সবক’টি লেয়ার আক্রান্ত হয়, অন্যটি চামড়ার সবক’টি লেয়ার আক্রান্ত হয় না। বাচ্চারা এই সময় খুব ভোগে। মা-খালারা গরম পানিতে গোসল করাতে চায়। শীতকালে তারা ভাবে একটু গরম পানিতে গোসল করালে হয়তো বাচ্চার ঠান্ডা লাগবে না। এখানে তারা একটি ভুল করে। ভুলটা কোথায়? আমাদের ত্বক আর শিশুদের ত্বক কিন্তু এক রকম নয়। বিশেষ করে যারা ছোট বাচ্চা, তাদের ত্বক হলো রসুনের চামড়ার মতো পাতলা। এখন আমি পানি গরম করলাম, আঙুল দিয়ে চেক করলাম। ভাবলাম, পানি সহনীয় রয়েছে। আমাদের ত্বক অনেক মোটা। তারা কিন্তু তখন গরমটা বুঝতে পারেনা।
পোড়াজনিত রোগীর লক্ষণসমূহ:
ব্যথা: ত্বকের শুধুমাত্র উপরিভাগ আক্রান্ত হলে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় তবে ত্বকে পোড়া বেশি হলে ব্যথা অনুভূত হয় না।
ফোসকা পড়া: ত্বকের উপর ব্লিস্টার বা ফোসকা দেখা যায় বা ত্বকের বেশি গভীরে পুড়ে গেলে আক্রান্ত স্থানের চারপাশ ফুলে উঠতে পারে।
শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান: চোখ, নাক, মুখ আক্রান্ত হতে পারে। তবে শ্বাসনালী আক্রান্ত হলে এর জটিলতা অনেক বেশি হয়।
পানিশূন্যতা: শরীরের প্রয়োজনীয় জলীয় পদার্থ বের হয়ে গেলে পানিশূন্যতা দেখা যেতে পারে এমনকি আক্রান্ত শিশু রক্তচাপ কমে গিয়ে শাক চলে যেতে পারে। কখনো কখনো রোগীর স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়ে শিশু কোমায় যেতে পারে।
তাক্ষণিকভাবে করণীয়: আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আগুনের জায়গা থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
দৌড়াদৌড়ি করা যাবে না, আগুন লাগলে সেটা কাপড় পেঁচিয়ে বা মাটিতে গড়িয়ে নিভানোর চেষ্টা করতে হবে।
পরিধানের কাপড় খুলে ফেলার চেষ্টা করতে হবে। তবে কোনো জায়গার কাপড় যদি পুড়ে গিয়ে গায়ের সাথে লেগে যায়- সেটা টেনে উঠানো যাবে না। আক্রান্ত জায়গায় প্রচুর পরিমাণে পানি ঢালতে হবে।
ফোসকা পড়লে তার উপরের চামড়া তুলে ফেলবো না, ঐ স্থান খোলা রাখতে হবে। এতে ক্ষতস্থান জলদি শুকিয়ে যাবে।
জটিলতা সমূহ:
কিডনী বিকল হওয়া: ফুসফুসে পানি জমে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
খাদ্যনালীতে ক্ষত: খাদ্যনালীতে পোড়ার ক্ষত একটি গুরুতর অবস্থা, বিশেষত যদি এটি রাসায়নিক বা ক্ষারীয় পদার্থের কারণে হয়। দেরি করলে খাদ্যনালীতে স্থায়ী ক্ষতি বা ছিদ্র হয়ে যেতে পারে।
ত্বকে পোড়ার স্থায়ী দাগ থেকে যাওয়া: দাগ পুরোপুরি মুছে ফেলা কঠিন, তবে সঠিক যত্নে এর চেহারা অনেক উন্নত হতে পারে।
অসাবধানতাই বার্ন ইনজুরির প্রধান কারণ। আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে প্রাথমিকভাবে করণীয় কাজগুলো ধীর-স্থিরভাবে সম্পন্ন করে প্রয়োজনে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।রান্নার পর চুলা নিভিয়ে ফেলুন। গরম পানি, গরম পাত্র শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
সানা









