চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঝুঁকি; পেন্টাগনের রিপোর্ট

ছবি: রয়টার্স

 যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের সাম্প্রতিক পেন্টাগন রিপোর্টে বলা হয়েছে, চীনের সামরিক শক্তি “ঐতিহাসিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে”, যা যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রাখছে।

রিপোর্টটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পিত পারমাণবিক অস্ত্র সীমাবদ্ধতা এবং চীন-রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

রিপোর্টে চীনের সামরিক বাহিনীকে “উন্নত ও স্থিতিশীল” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। চীন বড় পরিসরের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশ নিতে খুবই সতর্ক এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যর্থতা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করছে। পাশাপাশি, চীনের ক্রমবর্ধমান চাপ তাইওয়ানকে ঘিরে আরও স্পষ্ট।

পেন্টাগন রিপোর্টে বলা হয়েছে, চীনের পারমাণবিক, সামুদ্রিক, দীর্ঘ-পরিসরের আক্রমণ, সাইবার ও মহাকাশ সক্ষমতা ক্রমশ বাড়ছে, যা সরাসরি আমেরিকার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে সক্ষম।

চীনের পারমাণবিক হেডের সংখ্যা ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ৬০০-এর কাছাকাছি ছিল। তবে রিপোর্টে ধীর উৎপাদনের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সামরিক বাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার চালিয়েছেন, বিশেষ করে রকেট ফোর্স ও সরঞ্জাম ক্রয় বিভাগে। এই সংস্কার সামরিক কার্যকারিতায় ক্ষতি এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

চীনের সামরিক আধুনিকীকরণের লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণ হবে। এর মধ্যে রয়েছে তাইওয়ানের ওপর “স্ট্র্যাটেজিক ডিসাইসিভ বিজয়”, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “স্ট্র্যাটেজিক কাউন্টারব্যালেন্স”, এবং অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর “স্ট্র্যাটেজিক ডেটারেন্স ও কন্ট্রোল

রিপোর্টে হাইপারসনিক অস্ত্র উন্নয়নের ক্ষেত্রে চীনের অগ্রগতি উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পের “গোল্ডেন ডোম (Golden Dome)” সিস্টেম পরিকল্পনা এই নতুন হুমকি এবং প্রচলিত ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরোধে সাহায্য করবে।

চীনের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান রিপোর্টে বর্ণিত দিকগুলোতে সরাসরি মন্তব্য না করে যুক্তরাষ্ট্রকে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “চীন তার পারমাণবিক শক্তি শুধুমাত্র জাতীয় নিরাপত্তার জন্য রাখে এবং কোনো দেশকে লক্ষ্য করে পারমাণবিক প্রতিযোগিতায় নেই।”

সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস

মানসুরা মানজিল চৈতী/