বিয়ের প্রথম ৫বছর বাবা-মায়ের থেকে দূরে থাকা উচিত দম্পতিদের! কিন্তু কেন?

বিয়ের পর বাবা-মা থেকে দূরে থাকা উচিত কেন এই বিষয়ে অনেকের মতবিরোধ থাকতে পাবে তবে বিশেষজ্ঞদের কথায়, বিয়ের পর সঙ্গীকে গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক। একটি মেয়ে পরিবার ছেড়ে যখন অন্য পরিবেশে থাকে তখন তাঁর নানারকম সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। তাই সেই সময় তাঁর যত্ন নেবে এমন মানুষ প্রয়োজন। কিন্তু সাধারণত দেখা যায়, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বাকিদের কথা ভাবতে হয় নববধূর, কিন্তু তাঁর জন্যে কেউ নেই! যার প্রভাব পড়ে সম্পর্কে। নতুন পরিবেশ, নতুন জীবন, কাজও নতুন। ফলে ভুলভ্রান্তি হওয়া খুব স্বাভাবিক। বড়দের সঙ্গে থাকলে, তাঁরা সাধারণত ভুল ধরেন, বকাঝকাও করেন। ফলে দূরে থেকে নিজেদের মতো করে সবটা শুরু করাই ভালো। এতে পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতাও বাড়ে।

নিজেদের সমস্যা নিজেরা সমাধান করলে আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ে এবং দম্পতির মধ্যে মানসিক পরিপক্কতা আসে। নিজস্ব প্রাইভেসি থাকলে একে অপরকে ভালোভাবে জানা ও বোঝা যায়, যা সম্পর্কের বন্ধনকে দৃঢ় করে। যৌথ পরিবারে অনেক সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের হস্তক্ষেপ সম্পর্কের মধ্যে সমস্যা তৈরি করে, যা আলাদা থাকলে এড়ানো যায়। ঘর সাজানো, সময় কাটানো, তা স্বাধীনভাবে করা যায়।

ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামে স্ত্রীর জন্য স্বামীর বাড়িতে আলাদা থাকার অধিকার আছে, যদিও বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বও রয়েছে। স্বামী তার বাবা-মা ও স্ত্রীর দেখাশোনার করবে তবে স্ত্রীর জন্য নিজস্ব বাসস্থান নিশ্চিত করাও তার কর্তব্য।

প্রথম কয়েক বছর আলাদা থাকাটা দম্পতির জন্য উপকারী হতে পারে, কারণ এতে তাদের নিজেদের মধ্যে দৃঢ় বন্ধন তৈরি হয়। তবে, যদি বাবা-মা অসুস্থ হন বা আর্থিক ও মানসিক সামঞ্জস্য থাকে, তাহলে একসাথে থাকাও সম্ভব, যদি উভয় পক্ষই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে নিজেদের পরিসর বজায় রাখতে পারে।

সানা/