আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা: নিহতের সংখ্যা বাড়ছে, নারী-শিশুসহ বহু হতাহত

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ডজনখানেক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কাবুল। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে চালানো হামলায় একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একাধিক আবাসিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর আলজাজিরার।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নানগারহার প্রদেশে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। পাকতিকা প্রদেশে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হয়নি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোরের দিকে বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় বাসিন্দাদের। পরে তারা বাড়িঘর ধসে পড়া ও আগুন জ্বলতে দেখেন।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ হামলাকে “আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন” আখ্যা দিয়ে বলেছে, বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তারা পাকিস্তানকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করে যথাযথ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান দাবি করেছে, তাদের বাহিনী সশস্ত্র গোষ্ঠী টিটিপি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের আস্তানায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছে। ইসলামাবাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গোষ্ঠী সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক হামলার সঙ্গে জড়িত।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হামলায় মূলত বেসামরিক ঘরবাড়িই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে লাশ ও আহতদের বের করে হাসপাতালে পাঠাচ্ছেন।

সর্বশেষ এই হামলায় সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

-বেলাল