মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন বারুদের গন্ধ। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এই প্রথম ওই অঞ্চলে সবথেকে বড় সামরিক শক্তি সমাবেশ ঘটিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন থেকে আসা সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে অত্যাধুনিক এফ-২২ র্যাপ্টর এবং এফ-৩৫ লাইটনিংয়ের মতো স্টেলথ যুদ্ধবিমানগুলো।
সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের যেকোনো সম্ভাব্য পদক্ষেপ মোকাবিলায় এবং দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গুঁড়িয়ে দিতে আমেরিকা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে এখন ডজন ডজন মার্কিন যুদ্ধবিমানের গর্জন শোনা যাচ্ছে।
আকাশপথের পাশাপাশি সমুদ্রপথেও ঘেরাও করা হচ্ছে ইরানকে। পারস্য উপসাগরে ইতোমধ্যে অবস্থান করছে শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। এর সঙ্গে যোগ দিতে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে আমেরিকার সবথেকে আধুনিক এবং বৃহত্তম রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। এই বিশাল নৌবহরে যুক্ত রয়েছে অন্তত নয়টি ডেস্ট্রয়ার, যা ব্যালিস্টিক মিসাইল রুখে দিতে সক্ষম। কেবল বিমান হামলা নয়, প্রয়োজনে কয়েক সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের ছক কষছে পেন্টাগন। এই সামরিক মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া; হয় সমঝোতা করো, নয়তো চরম পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকো।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের সরাসরি জানিয়েছেন, সমঝোতা না করার ফলাফল ইরানের জন্য মোটেও সুখকর হবে না। যদিও জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে এবং কিছু অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে, তবুও ওয়াশিংটন ও তেহরান এখনো অনেক মৌলিক বিষয়ে একে অপরের থেকে যোজন যোজন দূরে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ না করে, তবে সামরিক পদক্ষেপই হবে শেষ রাস্তা। এমনকি মার্কিন কমান্ডোদের একটি বিশেষ দল সপ্তাহান্তের মধ্যেই সম্ভাব্য হামলার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে অসমর্থিত কিছু সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
তবে এবারের প্রেক্ষাপট আগের চেয়ে ভিন্ন। ১৯৯১ সালের গালফ ওয়ার কিংবা ২০০৩ সালের ইরাক অভিযানের মতো বড় কোনো আন্তর্জাতিক জোট এবার আমেরিকার পাশে নেই। তাছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবার তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, যা মার্কিন পরিকল্পনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে ইরানও বসে নেই। তেহরান হুমকি দিয়েছে যে, হামলা হলে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে। তাদের হাতে থাকা মিসাইল ভাণ্ডার দিয়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে। সবমিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে পুরো বিশ্ব। এখন দেখার বিষয়, কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে কোনো সমাধান আসে নাকি ফের একবার প্রকম্পিত হয়ে ওঠে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ।
-সাইমুন










