দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়োলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ছবিঃ সংগৃহীত

 বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়োল-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারির ঘটনায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

বৃহস্পতিবার(১৯ ফেব্রুয়ারি) সিউল কেন্দ্রীয় জেলা আদালতে রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি জি গুই-ইয়ন। তিনি বলেন, “সামরিক আইন জারির ফলে বিপুল সামাজিক ক্ষতি হয়েছে এবং আসামি তার জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছেন-এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।”

আদালত বলেন, “আসামি ইউন সুক-ইয়োলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলো।” রায়ে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ঘোষিত সামরিক আইন কার্যকর করতে ইউন সুক-ইয়োল জাতীয় পরিষদে সেনাবাহিনী পাঠান। আদালতের মতে, তিনি উল্লেখযোগ্য সময়ের জন্য জাতীয় পরিষদের কার্যক্রম অচল ও পঙ্গু করে দিতে চেয়েছিলেন।

তবে বিশেষ কৌঁসুলির পক্ষ থেকে ইউন দীর্ঘমেয়াদি একনায়কতন্ত্র কায়েমের পরিকল্পনা করেছিলেন-এমন অভিযোগ আদালত খারিজ করে দিয়েছেন।

৬৫ বছর বয়সী ইউন সুক-ইয়োল আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, রাষ্ট্রপতি হিসেবে সামরিক আইন জারির সাংবিধানিক ক্ষমতা তাঁর ছিল এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছিল-এটি ঠেকাতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।

এর আগে সামরিক আইন জারির ঘটনায় অভিশংসনের মাধ্যমে তাঁকে পদচ্যুত করা হয়। প্রসিকিউশন তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিল। এ ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

-বেলাল