ভারত ও ফ্রান্স তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুম্বাইয়ে একটি দীর্ঘ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। বৈঠকে সামরিক, বেসামরিক এবং কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরালো করার বার্তা দেওয়া হয়। খবর বিবিসি বাংলার।
বৈঠকের পর মুম্বাইয়ে রাজ্যপাল আবাস লোকভবন-এ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ফ্রান্স ভারতের প্রাচীনতম কৌশলগত অংশীদারদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, এই অংশীদারিত্ব শুধু কৌশলগত নয়, এটি বৈশ্বিক স্থায়িত্ব ও অগ্রগতির পথে ভারতকে এগিয়ে নেবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, গত অষ্ট বছরের মধ্যে ভারত ও ফ্রান্স বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে। এখন সেই সহযোগিতাকে বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করতে পেরে আমরা আনন্দিত। তিনি আরও বলেন, সামরিক ক্ষেত্র ছাড়াও মহাকাশ গবেষণা এবং অন্যান্য উচ্চপ্রযুক্তি খাতেও দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ বৃদ্ধি পাবে।
হেলিকপ্টার কারখানা
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কর্ণাটকের ভিমাগলে ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথভাবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এইচ-১২৫ হেলিকপ্টার উৎপাদন কারখানা গড়ে তোলা হবে। এ কারখানায় হেলিকপ্টারের বিভিন্ন অংশ একত্রিত করে পূর্ণাঙ্গ হেলিকপ্টার তৈরি করা হবে। এই হেলিকপ্টার বিশ্বের একমাত্র বিমান যা মাউন্ট এভারেস্টের শিখরে উড়তে সক্ষম। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানান, কারখানায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে এবং এতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বড় সংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ভারতের এই হেলিকপ্টার সারা বিশ্বে রফতানি করা হবে।
হ্যামার ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ
দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বৈঠকে ২০ বছরের পুরোনো সামরিক সহযোগিতা চুক্তি আরও দশ বছর বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ‘হ্যামার’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা। আকাশ থেকে ভূমিতে নিখুঁত আঘাত দিতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র পর্বত ও দুর্গম অঞ্চলেও কার্যকর। এই ক্ষেপণাস্ত্র রাফায়েল যুদ্ধবিমান এবং ভারতের তৈরি তেজস যুদ্ধে সংযুক্ত করা যাবে। ২০২০ সালে চীনের সঙ্গে গালওয়ান উত্তেজনার সময় ভারত এই ক্ষেপণাস্ত্র জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহার করেছিল।
রাফায়েল যুদ্ধ বিমান
ফ্রান্স সফরের ঠিক আগে ভারত ১১৪টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ‘ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল’ ৩৬ লাখ কোটি টাকার এই ক্রয় কার্যকর করেছে। এর মধ্যে ১৮টি বিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে আনা হবে, বাকি ৯০টিরও বেশি ভারতেই তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, এই সিদ্ধান্ত ভারতের দীর্ঘদিনের বিদেশী নির্ভরতা হ্রাস করবে এবং দেশীয় সামরিক শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।
সামরিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব
এই চুক্তি শুধু সামরিক নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত বিশ্বাস ও সহযোগিতার প্রতীক। রাফায়েল যুদ্ধবিমান, হ্যামার ক্ষেপণাস্ত্র এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন হেলিকপ্টার ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া, এই অংশীদারিত্ব ভারতের বৈশ্বিক কৌশলগত অবস্থান আরও দৃঢ় করবে।
-বেলাল










