টিকটক অ্যাপ ব্যবহার না করলেও প্রতিষ্ঠানটি আপনার অনলাইন কার্যকলাপের নানা তথ্য সংগ্রহ করতে পারে-এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ পদক্ষেপ নিলে এই তথ্য সংগ্রহ অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব।
কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয়
টিকটক তার তথাকথিত ‘পিক্সেল’ নামের একটি ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যুক্ত থাকে এবং ব্যবহারকারীরা সেখানে কী দেখছেন, কী ক্লিক করছেন বা কী কিনছেন-সেসব তথ্য সংগ্রহ করে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কেউ যদি ক্যান্সার সহায়তা সংস্থার ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেকে রোগী বা সুস্থ হওয়া ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন, সেক্ষেত্রে সেই তথ্য ও ইমেইল ঠিকানা টিকটকের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। একইভাবে উর্বরতা পরীক্ষা বা মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা সংক্রান্ত সাইটেও তথ্য পাঠানো হতে পারে। বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান ‘ডিসকানেক্ট’-এর প্রযুক্তি কর্মকর্তা প্যাট্রিক জ্যাকসনের ভাষায়, এই পদ্ধতি “অত্যন্ত অনুপ্রবেশমূলক”। তাঁদের দাবি, নতুন সংস্করণের পিক্সেল আগের চেয়ে বেশি তথ্য সংগ্রহ করছে এবং কখনও কখনও ওয়েবসাইট মালিকদের অজান্তেই তথ্য পাঠিয়ে দিচ্ছে। টিকটক বলছে, তারা তাদের গোপনীয়তা নীতিতে তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে এবং ব্যবহারকারীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন সেটিংসও দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সংবেদনশীল স্বাস্থ্য তথ্য শেয়ার করা ওয়েবসাইটগুলোর জন্য নিষিদ্ধ।
কেন বিষয়টি উদ্ধেগজনক
গোপনীয়তা রক্ষায় কাজ করা প্রতিষ্ঠান ডাকডাকগো জানায়, বিশ্বের শীর্ষ ওয়েবসাইটগুলোর প্রায় ৫ শতাংশে টিকটকের ট্র্যাকার রয়েছে। তুলনায় গুগলের ট্র্যাকার রয়েছে প্রায় ৭২ শতাংশ সাইটে এবং মেটার রয়েছে প্রায় ২১ শতাংশে। সমালোচকদের মতে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। এই তথ্য ব্যবহার করে লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন দেখানো হলেও তা মূল্য বৈষম্য, রাজনৈতিক প্রভাব বা অন্য ধরনের অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম মালিকানা পরিবর্তনের পর নতুন তথ্য সংগ্রহ নীতিতে ব্যবহারকারীদের সম্মতি নিতে হয়। এর ফলে টিকটকের বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ পদক্ষেপে ঝুঁকি কমানো যায়-
১. আরও গোপনীয়তাবান্ধব ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করুন। ডাকডাকগো ব্রাউজার, ব্রেভ, ফায়ারফক্স বা সাফারি সাধারণত ক্রোমের তুলনায় বেশি নিরাপদ বলে ধরা হয়।
২. ব্রাউজারে ট্র্যাকার ব্লকার এক্সটেনশন যুক্ত করুন। ডিসকানেক্ট, ডাকডাকগো, প্রাইভেসি ব্যাজার বা ঘোস্টেরি-এ ধরনের টুল ট্র্যাকিং রোধ করতে সহায়ক।
৩. একই ব্যক্তিগত তথ্য বিভিন্ন সাইটে ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন, যাতে তথ্য মিলিয়ে প্রোফাইল তৈরি করা কঠিন হয়।
৪. টিকটক ব্যবহারকারী হলে অ্যাপের ভেতরে থাকা সেটিংস থেকে সংগৃহীত তথ্য মুছে ফেলার অনুরোধ করতে পারেন। যাঁদের অ্যাকাউন্ট নেই, তাঁরাও তথ্য মুছে ফেলার আবেদন জানাতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত উদ্যোগ কিছুটা সুরক্ষা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী গোপনীয়তা আইন প্রয়োজন। তাঁদের ভাষ্য, এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; বরং পুরো ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার কাঠামোগত ইস্যু।
-বেলাল









