নাসা: নাসার আর্টেমিস-৩ মিশনের জন্য তৈরি পরবর্তী প্রজন্মের স্পেসস্যুট গুরুত্বপূর্ণ এক প্রযুক্তিগত পর্যালোচনা সফলভাবে অতিক্রম করেছে। সংস্থাটি প্রথমবারের মতো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অ্যাক্সিওম স্পেস নির্মিত নতুন এই স্পেসস্যুট বর্তমানে বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নাসার মহাকাশচারী ও প্রকৌশলীরা পানির নিচে এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি চাঁদের পৃষ্ঠের পরিবেশে কাজের অনুকরণ করে নিরাপত্তা ও চলাচল সক্ষমতা যাচাই করছেন।
নতুন স্পেসস্যুটের বৈশিষ্ট্য
AxEMU (অ্যাক্সিওম এক্সট্রাভেহিকুলার মোবিলিটি ইউনিট) মহাকাশচারীদের আরও নমনীয়তা ও উন্নত চলাচল সুবিধা দেবে। এর মাধ্যমে তারা সহজে হাঁটতে, ঝুঁকে ভূতাত্ত্বিক নমুনা সংগ্রহ করতে এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
এই স্যুটে—
- বিভিন্ন আকারে মানানসই ব্যবস্থা
- উন্নত জীবন-সমর্থন ব্যবস্থা
- চাঁদের কঠোর পরিবেশ সহ্য করার মতো অতিরিক্ত সুরক্ষা
এছাড়া, চাঁদের পৃষ্ঠে কাজের জন্য বিশেষ সরঞ্জামও তৈরি করছে অ্যাক্সিওম স্পেস।
পরবর্তী ধাপ
অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিগত পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পর এখন নাসা যাচাই করবে এই স্যুট আর্টেমিস-৩ মিশনের জন্য প্রস্তুত কিনা। নাসার নেতৃত্বে একটি চূড়ান্ত নকশা মূল্যায়ন হবে, যেখানে নিশ্চিত করা হবে যে হার্ডওয়্যার ও সিস্টেমগুলো চূড়ান্ত পরীক্ষা ও সরবরাহের জন্য সঠিক পথে রয়েছে।
এদিকে, প্রথম উড্ডয়নযোগ্য ইউনিটের যন্ত্রাংশ গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা বসন্তে সংযোজন করা হবে।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য
জনসন স্পেস সেন্টারের এক্সট্রাভেহিকুলার অ্যাক্টিভিটি ও হিউম্যান সারফেস মোবিলিটি প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপক লারা কিয়ার্নি বলেন:
“অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে অ্যাক্সিওম স্পেস নতুন প্রজন্মের চন্দ্র স্পেসস্যুট সরবরাহের আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছেছে। এটি নিরাপদ ও সক্ষম স্পেসস্যুট সরবরাহে আমাদের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন, যা মহাকাশচারীদের চাঁদের পৃষ্ঠে অনুসন্ধানে সহায়তা করবে।”
পরীক্ষা কার্যক্রম
নাসা ও অ্যাক্সিওম স্পেস ইতোমধ্যে ৮৫০ ঘণ্টার বেশি চাপযুক্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে, যেখানে একজন ব্যক্তি স্যুটের ভেতরে ছিলেন।
নিউট্রাল বুয়েন্সি ল্যাবরেটরিতে ৪০ ফুট গভীর পানির নিচে চাঁদের এক-ষষ্ঠাংশ মাধ্যাকর্ষণ অনুকরণ করে স্যুটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।
এছাড়া, অ্যাক্টিভ রেসপন্স গ্র্যাভিটি অফলোড সিস্টেম সুবিধায় বিভিন্ন চাপমাত্রায় স্যুট পরে কাজ করার সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ ওভারহেড লিফট ব্যবস্থার মাধ্যমে চাঁদের কম মাধ্যাকর্ষণ পরিবেশ তৈরি করা হয়।
উচ্চ চাপের স্যুট ব্যবহারে মানিয়ে নেওয়ার সময় কম লাগে, ফলে আর্টেমিস মিশনে মহাকাশচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠে বেশি সময় হাঁটতে পারবেন।
নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
আর্টেমিস কর্মসূচিতে মহাকাশচারীদের নিরাপত্তা নাসার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ৫০ বছরের বেশি স্পেসস্যুট অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নাসা প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা মান নির্ধারণ করেছে। উন্নয়নের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে সিস্টেম যাচাই করা হচ্ছে, যাতে ঝুঁকি কমানো যায়।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
এই নতুন স্পেসস্যুট, উন্নত ল্যান্ডার ও রোভারসহ, আর্টেমিস কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদের বিস্তৃত অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে।
সাবরিনা রিমি/










