ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচন-পরবর্তী সম্ভাব্য সহিংসতা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত এবং নাশকতার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচনের পরদিন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নগর এলাকা, কৌশলগত স্থাপনা এবং জনবহুল স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাজধানীর পল্টন, কাকরাইল, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা ও বসুন্ধরা এলাকাসহ বিভিন্ন মোড়ে টহল জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত মোবাইল টহলের পাশাপাশি চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা যৌথভাবে মাঠে কাজ করছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট স্থাপনা এবং গণমাধ্যম কার্যালয়গুলোতেও বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
নির্বাচনকে ঘিরে পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে সারাদেশে ব্যাপকসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়, যার ধারাবাহিকতা নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও বজায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন।
ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১,১৯১টি স্ট্রাইকিং টিম সারাদেশে দায়িত্ব পালন করছে, যারা নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচন দিবস ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়জুড়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে এসব দলকে সমন্বিত কমান্ড সিস্টেমের আওতায় রাখা হয়েছে।
পূর্ববর্তী সহিংসতার পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিয়েও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের আগ পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩১৭টি সহিংস ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়, যাতে কয়েকজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। এ প্রেক্ষাপটে নির্বাচন-পরবর্তী সময়কে ঝুঁকিপূর্ণ ধরে অতিরিক্ত নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা রোধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, চলমান কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা কমে আসবে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরবে।
_এজাজ আহম্মেদ/মামুন










