ভোটে অনিয়মের অভিযোগে সারা দেশে আটক অন্তত ৩৪

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় সারা দেশে অনিয়মের অভিযোগে অন্তত ৩৪ জনকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় এসব আটকের ঘটনা ঘটে।

ভোলা
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার আবদুল জব্বার কলেজ কেন্দ্র থেকে আবদুল হালিম নামের এক সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কলেজটির পুরুষ কেন্দ্রের ১ নম্বর বুথ থেকে তাঁকে আটক করা হয়। কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবদুল হালিম এক ভোটারকে একসঙ্গে দুটি ব্যালট পেপার দেন। বিষয়টি নজরে আসার পর তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ছাড়া একই কেন্দ্রে ভোটকক্ষে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করে ছবি তোলার সময় এক ভোটারকে আটক করা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

ভোলা-২ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের খেপুপাড়া নেছারুদ্দিন কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সোহাগ সিকদারকেও (৪৬) আটক করা হয়েছে। কলাপাড়ার ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কাউছার হামিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে কুয়াকাটার ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে বেলায়েত হোসেন (৪৬) নামে একজনকে গোপন কক্ষে ছবি তোলার অভিযোগে আটক করা হয়েছে বলে জানান কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. শাহাদুল ইসলাম।

নোয়াখালী
নোয়াখালী-৬ আসনের হাতিয়া উপজেলার একটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে প্রকাশ্যে সিল মারার অভিযোগে একজন নারী সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে আটক করা হয়েছে। তাঁর নাম রিজিয়া সুলতানা। তিনি উপজেলার সৈয়দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। আজ হাতিয়া শহরের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রকাশ্যে সিল মারার এ ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল বাসেদ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সিল মারার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, আজ দুপুরের দিকে রিজিয়া সুলতানা প্রকাশ্যে ভোটারের ব্যালট পেপারে সিল মারছিলেন। বিষয়টি ভোট কক্ষে উপস্থিত কেউ একজন মুঠোফোনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেন। এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার পর তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তবে অভিযুক্ত রিজিয়া সুলতানা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিন মাস বয়সের নবজাতক সন্তানকে নিয়ে আসা একজন নারী ভোটারের অনুরোধে তিনি তাঁর ব্যালটে সিল মেরে দেন।

-মামুন