আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন এবং ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবর আলজাজিরা।
মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে মলোটভ ককটেল ও ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পার্লামেন্ট ভবনের সামনেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, বিক্ষোভকারী বা উভয় পক্ষের লোকজন রয়েছেন কিনা-এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা
গত নভেম্বর থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে। অভিযোগ ওঠে, উপপ্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানি এবং অবকাঠামো মন্ত্রী বেলিন্ডা বালুকু সরকারি নির্মাণ চুক্তি প্রদানের প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছেন। অভিযোগের পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও পরের মাসে প্রধানমন্ত্রী রামার অনুরোধে তাকে পুনর্বহাল করা হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী রামা ও বালুকু-উভয়ের পদত্যাগ দাবি করেছেন। পাশাপাশি বালুকুর সংসদীয় দায়মুক্তি প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে মামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
বিরোধী দলের আহ্বানে বিক্ষোভ
মঙ্গলবারের বিক্ষোভে প্রায় ১,৩০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুই সপ্তাহ আগে তিরানায় আরেকটি সহিংস সমাবেশের পর এটি ছিল নতুন করে বড় আকারের প্রতিবাদ। বিক্ষোভের ডাক দেন বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী সালি বেরিশা। তিনি বলেন, এই আন্দোলন আলবেনিয়ায় একটি “শান্তিপূর্ণ গণঅভ্যুত্থান”-এর সূচনা। তবে বেরিশার বিরুদ্ধেও অতীতে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেন্টর কিকিয়া বলেন, দেশের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী-উভয় পক্ষের প্রতিই জনগণের আস্থার সংকট রয়েছে। তার ভাষায়, “নাগরিকরা বড় অকল্যাণ ঠেকাতে ছোট অকল্যাণকে বেছে নেওয়ার চক্রে আটকে আছেন। এখন ধারণা তৈরি হয়েছে-রামা গেলে বেরিশা ফিরবেন। একজন দুর্নীতির কারণে ক্ষমতা ছেড়েছিলেন, অন্যজনেরও একই কারণে সরে যাওয়া উচিত।”
– বেলাল










