ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশে দুর্নীতি ক্রমশ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্কোরও তার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে, যা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমানোর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। খবর আলজাজিরার।
বার্লিন ভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ২০২৫ সালের দুর্নীতি উপলব্ধি সূচক -তে গ্লোবাল গড় স্কোর ৪২, যা এক দশকেরও বেশি সময়ে সবচেয়ে কম। সূচকটি ০ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কেলে তৈরি করা হয়, যেখানে ০ অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ১০০ খুবই স্বচ্ছ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সিপিআই স্কোর ২০২৪ সালের ৬৫ থেকে কমে ৬৪-এ নেমেছে। টিআই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, “স্বতন্ত্র কণ্ঠকে লক্ষ্য করে নেওয়া এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করা” যুক্তরাষ্ট্রে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও, ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশি সহায়তা হ্রাসের কারণে “বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি প্রতিরোধ প্রচেষ্টা দুর্বল হয়েছে”।
বিশ্বের অন্য দেশগুলো
প্রতিবেদন বলেছে, ১৮০ দেশের মধ্যে ১২২ দেশের স্কোর ৫০-এর নিচে, অর্থাৎ “বৃহৎ অংশই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ।” তবে ৩১ দেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে, যার মধ্যে এস্টোনিয়া (৭৬), সিশেলস (৬৮) ও দক্ষিণ কোরিয়া (৬৩) অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দেখায় যে গণতান্ত্রিক দেশগুলোর দুর্নীতি প্রতিরোধে পারফরম্যান্সের অবনতি ঘটছে। একই ধারা দেখা যাচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সেও। যদিও এই দেশগুলো সূচকের শীর্ষে রয়েছে, “দুর্নীতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে” বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
ইউরোপীয় ইউনিউনের দুর্বলতম দেশ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল দেশ হলো বুলগেরিয়া এবং হাঙ্গেরি, উভয়ই স্কোর মাত্র ৪০। হাঙ্গেরির জাতীয়তাবাদী নেতা ভিক্টর ওরবান গত ১০ বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা, নাগরিক স্বাধীনতা এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা দুর্বল করেছেন। এদিকে সূচকে ডেনমার্ক সর্বোচ্চ স্কোর ৮৯ পেয়েছে, ফিনল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে। সবচেয়ে নীচে অবস্থান করছে দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া (৯), এবং ভেনেজুয়েলা।
ইউক্রেনের ইতিবাচক উদ্যোগ
ইউক্রেনের স্কোর ৩৬। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি-এর সরকার দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেও দেশের যুদ্ধকালীন অবস্থায় নতুন দুর্নীতি প্রতিরোধ কাঠামো তৈরি করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এই এবং অন্যান্য কেলেঙ্কারির প্রকাশ দেখায় যে ইউক্রেনের নতুন দুর্নীতি প্রতিরোধ নীতি কার্যকর হচ্ছে।” প্রতিবেদনে সিভিল সোসাইটি উদ্যোগকে সম্মান জানানো হয়েছে, যা জেলেনস্কিকে দুর্নীতি প্রতিরোধ সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা সীমিত করার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য করেছে।
-বেলাল হোসেন










