ভোটের শেষ মুহূর্তে ভোলা-১ আসনে প্রচারণার ঝড়, সরগরম ভোটের মাঠ

ভোটের আর মাত্র দুদিন বাকি। এই নির্বাচনী আবহে শেষ মুহূর্তে ভোলা-১ আসনে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পাড়া-মহল্লা। প্রার্থীদের পদচারণায় ভোটের মাঠ এখন সরগরম। পাড়া-মহল্লায় উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোলা-১ আসনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মাঠে মূলত সক্রিয় রয়েছেন- গরুর গাড়ি প্রতীকে বিএনপি জোট প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী নাজিউর রহমানের ছেলে আন্দালিভ রহমান পার্থ, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম, হাতপাখা প্রতীকে ওবায়দুর রহমান, আম প্রতীকে এনপিপির প্রার্থী কবি মোঃ মিজানুর রহমান। প্রার্থীরা নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে জোরেশোরে প্রচার চালাচ্ছেন। ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। শেষ মুহূর্তে জনসভা করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করছেন তারা।

প্রচার-প্রচারণায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন এনপিপির প্রার্থী কবি মিজানুর রহমান। তার নেই কোনো বড় সভা-সমাবেশ। তিনি একাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ভোলা-১ আসনের উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরছেন। তার আবেগঘন বক্তব্য ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আপনভাবে মিশে যাওয়ার দৃশ্য ইতোমধ্যেই ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি ২০২৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৬০০ হাজার ৩১৮ বোট পেয়ে দ্বীতিয় হয়েছেন সেই অনুপ্রেরণা তেকেই তিনি সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন।

একাধিক সাধারণ ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত দিনে তারা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেননি। এবার তারা উৎসবমুখর পরিবেশে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে উন্মুখ। ভোটাররা বলছেন, আমরা সব প্রার্থীর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছি। যে প্রার্থী ভোলা-বরিশাল সেতু, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, গ্যাস ভিত্তিক শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মানুষের শান্তিতে থাকার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবে, তাকেই ভোট দেব। ইতোমধ্যে বিএনপি জোট প্রার্থী আন্দালিভ রহমান বরিশাল বিএনপির মহাসমাবেশে তারেক রহমানের কাছে ভোলা-বরিশাল সেতু ও মেডিকেল কলেজের দাবি তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নির্বাচিত হলে ভোলার উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত ভোলা গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবেন।

এদিকে ভোটাররা বলছেন, “আগে ভোট দিতে পারিনি, এবার আমরা স্বাধীনভাবে ভোট দেব।” প্রশাসনও নিয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার ৪টি আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ভোলা-৩ আসনে। এ আসনের ৫০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে তজুমদ্দিন উপজেলায় ৩৬টি এবং লালমোহনে ১৪টি। ভোলা-২ আসনে মোট ৩২টি ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। যার মধ্যে দৌলতখানে ২৫টি। এছাড়া ভোলা-৪ আসনে চরফ্যাশনে ১৬টি ও মনপুরায় ১১টি এবং ভোলা-১ সদর আসনে ২২টি কেন্দ্র ঝুকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রেখে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। এছাড়াও নির্বাচনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

মোঃ বিল্লাল হোসেন জুয়েল, ভোলা