নবীনগরে অস্ত্রসহ একজন আটক, শিশুকে মুচলেকায় মুক্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার টিয়ারা গ্রামে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় নিরাপত্তা নেওয়া আতিকুর রহমান শিশুকে সতর্কতার শর্তে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল টিয়ারা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আতিকুর রহমান (শিশু) এবং তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত কেরামত আলী (৫৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় কেরামত আলীর কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ কেরামত আলীকে সেনাবাহিনী হেফাজতে নেয়। অপরদিকে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আতিকুর রহমানকে ভবিষ্যতে নির্বাচনী পরিবেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার শর্তে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়।সূত্র জানায়, রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান উপজেলার পূর্বাঞ্চলে এক নির্বাচনী জনসভা শেষে নবীনগরে ফেরার পথে টিয়ারা গ্রামে অবস্থানকালে প্রবাসী ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান শিশু মিয়া তার অস্ত্রধারী গানম্যান কেরামত আলীকে সঙ্গে নিয়ে প্রার্থীর পাশে অবস্থান করেন। ওই সময় তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।

স্থানীয়দের দাবি, ধানের শীষের প্রতিপক্ষরা ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে নবীনগর সেনা ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর সানিউল আলমের নেতৃত্বে সেনাসদস্যরা অভিযান চালিয়ে ওই দু’জনকে আটক করে নবীনগর থানায় হস্তান্তর করেন।
এ বিষয়ে আতিকুর রহমান শিশু বলেন, “আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগ করায় গানম্যান নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম। তবে আবেদনটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।”

পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিদের নবীনগর থানায় হস্তান্তর করা হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিনিয়র সিভিল জজ আক্তার জাবেদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। আদালতের নির্দেশে আতিকুর রহমানকে সতর্ক থাকার শর্তে মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়। তবে উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ কেরামত আলীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে আলোকিত স্বদেশকে বলেন,’অস্ত্রটি বৈধ হলেও, এসময়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র বহনের কোন অনুমতি ওই গানম্যানের ছিল না। তাই অস্ত্র আইনে মামলা নিয়ে গানম্যানকে জেলে ও প্রবাসি ব্যবসায়ী শিশু মিয়াকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’

শাহিন রেজা টিটু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া