জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি করছাড় কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তন না আনার ঘোষণা দিয়েছেন। রোববারের সাধারণ নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বিপুল বিজয় অর্জনের পর তিনি এ কথা বলেন।খবর আলজাজিরার।
জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৫০০ সদস্যের জাতীয় সংসদে এলডিপি ৩১৬টি আসন পেতে যাচ্ছে, যা নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। এটি ১৯৫৫ সালে দলটির প্রতিষ্ঠার পর সর্বোচ্চ সাফল্য। এর আগে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুহিরো নাকাসোনের নেতৃত্বে এলডিপি সর্বোচ্চ ৩০০ আসন পেয়েছিল। এবারের ফল সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।
এলডিপির জোটসঙ্গী জাপান ইনোভেশন পার্টি পেয়েছে ৩৬টি আসন। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স আগের ১৭২টি আসনের মধ্যে ধরে রাখতে পেরেছে মাত্র ৪৯টি। বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই এই জয়ের মূল কারণ। এই শক্তিশালী ম্যান্ডেট তাকে দেশের নিরাপত্তা, অভিবাসন ও অর্থনৈতিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সুযোগ করে দেবে। সোমবার এনএইচকেকে দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তাকাইচি বলেন, তিনি জাপানকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে নীতি গ্রহণে জোর দেবেন। তিনি জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভোগকর (কনজাম্পশন ট্যাক্স) হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রচারণাকালে এলডিপি ঘোষণা দিয়েছিল, দুই বছরের জন্য খাদ্যপণ্যের ওপর ৮ শতাংশ বিক্রয়কর স্থগিত রেখে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো হবে।
তাকাইচি বলেন, “বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই ভোগকর কমানোর পক্ষে—কেউ খাদ্যপণ্যে কর শূন্যে নামানোর কথা বলছে, কেউ ৫ শতাংশে নামানোর পক্ষে। এলডিপিও করছাড়ের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। এটি একটি বড় ইস্যু, তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সর্বদলীয় একটি ফোরাম গঠনের আহ্বান জানাতে চাই।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান মন্ত্রিসভা একটি “ভালো দল” এবং এতে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কেইদানরেনও নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির প্রধান ইয়োশিনোবু সুতসুই বলেন, “টেকসই ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য জাপানের অর্থনীতি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এই ফল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।” যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি নির্বাচনের আগে তাকাইচিকে সমর্থন দিয়েছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে “অসাধারণ সাফল্য” কামনা করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংও তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং শিগগিরই সিউলে সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেছেন। ভারত, ইতালি ও তাইওয়ানের নেতারাও তাকাইচির বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছেন। আল জাজিরার টোকিও প্রতিনিধি প্যাট্রিক ফক জানান, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে-এর অভিনন্দন বার্তা চীনের অসন্তোষ ডেকে আনতে পারে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন-চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, জাপান হস্তক্ষেপ করতে পারে। এতে গত বছর বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। ফকের মতে, “টোকিও ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক তিনি কীভাবে সামলান, সেটিই জাপানের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির দিক নির্ধারণ করবে।”
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং তাকাইচির নেতৃত্ব ও নির্বাচনী ফলের দিকে ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, তাকাইচির শক্ত অবস্থান জাপানের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাকে আরও গতি দিতে পারে, যা বেইজিং জাপানের সামরিক অতীত পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা হিসেবে দেখছে। এশিয়া গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা ডেভিড বোলিং রয়টার্সকে বলেন, “বেইজিং তাকাইচির এই বিজয়কে স্বাগত জানাবে না। চীন এখন বাস্তবতা মেনে নিতে বাধ্য-তিনি শক্তভাবে ক্ষমতায় আছেন এবং তাকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।”
-বেলাল হোসেন










