এলাচ একটি পরিচিত ও মূল্যবান মসলা, যা শুধু খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ায় না, বরং বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ ও ইউনানি চিকিৎসায় এলাচ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ছোট এলাচ বিশেষ করে ওষধিগুণে ভরপুর এবং মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
হজমজনিত সমস্যায় এলাচ খুবই কার্যকর। বদহজম, গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অম্বলের সমস্যায় এলাচ চিবিয়ে খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। এলাচ হজমশক্তি বাড়ায় এবং পাকস্থলীকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। খাবারের পর এলাচ খাওয়ার অভ্যাস পেটের অস্বস্তি দূর করে।
সর্দি–কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে এলাচ উপকারী। এলাচে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান কফ দূর করতে সাহায্য করে এবং শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখে। গরম পানিতে এলাচ ফুটিয়ে সেই পানি পান করলে ঠান্ডা, কাশি ও গলা ব্যথায় আরাম পাওয়া যায়। হাঁপানি রোগীদের ক্ষেত্রেও এলাচ উপকারী বলে মনে করা হয়।
মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে এলাচ অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত এলাচ চিবালে মুখের জীবাণু নষ্ট হয় এবং শ্বাসে সতেজতা আসে। দাঁতের ব্যথা বা মাড়ির সমস্যায়ও এলাচ উপকার দেয়। তাই অনেকেই প্রাকৃতিক মাউথ ফ্রেশনার হিসেবে এলাচ ব্যবহার করে থাকেন।
হৃদরোগের ক্ষেত্রেও এলাচের উপকারিতা রয়েছে। এলাচ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত পরিমাণমতো এলাচ গ্রহণ হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।
এলাচ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। এটি মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। এলাচের সুগন্ধ মনকে শান্ত করে এবং ক্লান্তি দূর করে। মাথাব্যথা বা অবসাদে এলাচ চা বেশ আরামদায়ক।
এ ছাড়াও এলাচ শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি প্রস্রাবের সমস্যা দূর করে এবং কিডনি সুস্থ রাখতে সহায়ক। এলাচে থাকা ভিটামিন ও খনিজ শরীরকে শক্তিশালী করে তোলে।
সবশেষে বলা যায়, এলাচ একটি ছোট মসলা হলেও এর উপকারিতা অসীম। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে এলাচ গ্রহণ করলে অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই দৈনন্দিন জীবনে এলাচের ব্যবহার আমাদের সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
-বিথী রানী মণ্ডল










