সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের সম্পদ বুঝে নিতে সভা ডেকেছেন চট্টগ্রামের ডিসি

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জব্দ করা প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সম্পদের দখল বুঝে নেবেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি)। এ লক্ষ্যে আগামীকাল সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিলনায়তনে সভা ডাকা হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাবেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধের আদেশ দেন। এরপর আদালত ওইসব সম্পদ দেখভাল করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেন গত ১২ জানুয়ারি। দুদক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ওই সভায় জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপভুক্ত কোম্পানির সাত কর্মকর্তাকে ডাকা হয়েছে। তারা হলেন– আরামিট পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোছলেহ উদ্দিন মনছুর, পরিচালক এস এম শাহ আলম, মো. জাকির হোসাইন, মো. মোস্তাক আহমেদ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাইফুদ্দিন এবং আরামিট সিমেন্ট লিমিটেড ডিএলসির হিসাব বিভাগের ডিজিএম এ কে এম মারফ।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ সুপার, চট্টগ্রামে এফবিসিসিআই প্রতিনিধি, জেলা বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক; চট্টগ্রামের চান্দগাঁও, কাট্টলী, আগ্রাবাদ, আনোয়ারা, কর্ণফুলীর সহকারী কমিশনার (ভূমি), চট্টগ্রাম আইসিবির ব্যবস্থাপক, চট্টগ্রাম বিডিবিএলের ব্যবস্থাপক ও চট্টগ্রাম সাধারণ বীমার ব্যবস্থাপককে সভায় ডাকা হয়েছে।

আদালত জাবেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর বিভিন্ন সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধে করেছেন। যার মূল্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, আদালত জেলা প্রশাসককে ওইসব সম্পদ বুঝে নিয়ে সেগুলোর উৎপাদনসহ সব কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প প্রতিষ্ঠান ছয়টি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একটি, মার্কেট একটি, বাড়ি একটি ও ফ্ল্যাট ছয়টি।

ছয়টি শিল্প প্রতিষ্ঠান হলো– চট্টগ্রামের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় আরামিট সিমেন্ট লিমিটেড, আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড, আরামিট ফুটওয়্যার লিমিটেড, আরামিট পাওয়ার লিমিটেড, আরামিট স্টিল পাইপস লিমিটেড ও আরামিট অ্যালু কম্পোজিট প্যানেলস লিমিটেড।

এ ছাড়া কালুরঘাট শিল্প এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট লিমিটেড, চট্টগ্রাম শহরের সার্সন রোডে ভলকার্ট ৭-এ একটি বিলাসবহুল বাড়ি এবং চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে আখতারুজ্জামান সেন্টার নামে একটি বহুতল বিশিষ্ট মার্কেট রয়েছে।

এ ছাড়া রয়েছে ছয়টি ফ্ল্যাট। সেগুলো হলো– চট্টগ্রাম শহরের ও আর নিজাম রোডে ইকুইটি ইরাম ভবনের ১১ তলায় একটি; পাঁচলাইশে ইকুইটি পয়েন্ট ভবনে একটি; চট্টেশ্বরী রোডে এপিক অঙ্গন ভবনে একটি; লালখান বাজারের এপিক কামার পার্ক ভবনের ছয় তলায় একটি; একই ভবনের আট তলায় আরেকটি এবং পূর্ব নাসিরাবাদে ফিনলে স্কয়ার ভবনে একটি। এ ছাড়া ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা আরও সম্পদ রয়েছে।

-সাইমুন