বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এবারের নির্বাচন দেশকে পুনর্গঠন করার নির্বাচন। বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করতে চাই।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিরামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ বড় মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।
কৃষকদের জন্য আলাদা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এনজিও থেকে দুস্থ মানুষ বিভিন্ন সময় যে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণ করেছেন-তা জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধ করতে চাই। উত্তরাঞ্চল কৃষিপ্রধান এলাকা। আমরা চাই, এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত যত শিল্প-কলকারখানা আছে, সেসব এই এলাকায় গড়ে তুলতে চাই।
তারেক রহমান বলেন, আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। এখন দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। দেশকে খাদ্যে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই।
দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারেক রহমান বলেন, বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। মা-বোনদের শিক্ষিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। এসব কাজ যদি করতে হয়, তাহলে এ দেশের যে মালিক জনগণ, সেই মালিকের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের পক্ষে কাজগুলো করা সম্ভব নয়। এ জন্য এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি আপনাদের সহযোগিতা চাচ্ছি, ধানের শীষে ভোট চাচ্ছি-যাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।
দেশ গঠনে নারীদের অংশগ্রহণের গুরুত্বের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, নারীদের যদি কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে না পারি, তাহলে কোনোভাবেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না। এ কারণে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন বাংলাদেশের মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা বিনা মূল্যে করে দিয়েছিলেন। আজ দেশের কোটি নারী শিক্ষায় আলোকিত হয়েছেন। এই মা-বোন, নারীদের আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই।
নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে গৃহিণী যারা আছেন, তাদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ডের অধিকারী হবেন এ দেশের মায়েরা। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার পরিচালনা করতে পারেন—এ জন্য প্রতি মাসে একটা সহযোগিতা পৌঁছে দিতে চাই। এর ফলে তারা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন।
নির্বাচনী জনসভায় প্রতিপক্ষ দলের বিপক্ষে কথা বলে জনগণের কোনো লাভ হবে না জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণ জানতে চান, তারা যে আমাদের ভোট দেবেন আর আমরা তাদের জন্য কী করব। এই এলাকার মানুষের অনেকগুলো দাবি আছে। আমরা দিনাজপুর অঞ্চলের আম ও লিচুর প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জানান, দিনাজপুরে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার গড়ে তুলতে চাই। যারা আইটিতে কাজ করেন, তাদের জন্য আইটি পার্ক বা আইটি হাব গড়ে তুলতে চাই।
নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, মা-বোন ও শিশুদের জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গ্রামে গ্রামে হেলথকেয়ার নিযুক্ত করব। এখানে মেডিক্যাল কলেজের যে দাবি আছে, তা বাস্তবায়ন করব।
কেমন দেশ চান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই দেশ ২০ কোটি মানুষের দেশ। বেগম খালেদা জিয়া এত নির্যাতনের পরেও বলতেন, এই দেশটি তার প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। এ কারণে আমরা জনগণের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। জনগণের সমর্থন নিয়ে, জনগণের ভালোবাসা নিয়ে, জনগণের শক্তিতে বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। যে দেশে খেটে খাওয়া মানুষ নিরাপদে চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি-বাকরি করতে পারবে এবং যে বাংলাদেশের মা-বোনেরা নিরাপদে কাজ করতে পারবেন, মানুষজন ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা পাবে।
একাত্তরে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করা হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালে আমরা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছি। এখন দেশকে গঠন করতে হবে, দেশকে তৈরি করতে হবে, দেশের অর্থনীতি-গণতন্ত্রকে মজবুত করে গড়ে তুলতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, এ দেশে হাজার বছর ধরে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করে আসছে। আগামী হাজার বছরও প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যেন শান্তিতে এ দেশে বসবাস করতে পারেন। যে যার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সামনে এগিয়ে যাবে। প্রত্যেককে বিচার করা হবে এর ভিত্তিতে। ধর্ম দিয়ে তাকে বিচার করা হবে না।
দীর্ঘ ২২ বছর পর দিনাজপুর নানী বাড়ীর মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা হওয়ার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, বহু বছর পর এই দিনাজপুর এর মাটিতে আসতে পেরেছি। এ জন্য আল্লাহর কাছে হাজার কোটি শুকরিয়া।
এর আগে, তারেক রহমান ২০০৩ সালে সর্বশেষ দিনাজপুর এসেছিলেন।
-সাকিব হাসান নাইম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)










