সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল সব ধরনের শালীনতা বিসর্জন দিয়ে লাগাতার মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তাদের নেতাদের মুখে দেশ পরিচালনা কিংবা সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে কোনো বাস্তব কথা শোনা যায় না। নিজেদের সংকীর্ণ এজেন্ডা ছাড়া দেশ ও জনগণের জন্য তাদের রাজনীতিতে কিছুই নেই।
তিনি বলেন, যদি ওই দলের ন্যূনতম রাজনৈতিক সততা থাকতো, তাহলে তারা বারবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আঁতাত করতো না। তারা নিজেদের ইসলামী দল দাবি করলেও দলের লোগো থেকে আল্লাহর নাম বাদ দিয়েছে। এই দ্বিচারিতা এদেশের রাজনীতিতে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের এই দেশে তারা বেহেশতের লোভ দেখিয়ে ভোট চায়—তাদের মনে কি আল্লাহর কোনো ভয় নেই? যদি ভয় থাকতো, তাহলে ইসলামকে এভাবে বিকৃত করতো না।
খন্দকার মুক্তাদির আরও বলেন, জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারী এই দলটি আজগুবি ও অবান্তর কথাবার্তা বলেই চলেছে। মেয়েদের কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে আনার মতো দায়িত্বহীন বক্তব্য দিয়ে তারা ভোট টানার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এবং রক্তের বিনিময়ে এদেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের মেজরটিলায় ৩২ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক আহমদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি কবির উদ্দিন ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম হিল্টনের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম ডালিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল, মাহবুবুল হক চৌধুরী প্রমুখ।
এদিকে সকালে সিলেট সচেতন ব্যবসায়ী ফোরামের উদ্যোগে ধানের শীষের পক্ষে স্বতঃস্ফূর্ত প্রচারণা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, কোর্টপয়েন্ট, বন্দরবাজার, সিটি সুপার মার্কেট, হকার্স মার্কেট, লালদিঘীরপাড় ও করিমউল্লাহ মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় দুপুর পর্যন্ত এ প্রচারণা চলে।
গণসংযোগকালে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটকে একটি আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ভৌগোলিক অবস্থান, প্রবাসী সংযোগ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সিলেটে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি। নির্বাচিত হলে এই চিত্র বদলানো হবে।
তিনি জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি, ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় হয়রানি ও জটিলতা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রচারণাকালে ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং তিনি ধৈর্যের সঙ্গে সেগুলো শুনে সমাধানের আশ্বাস দেন।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজার, বিপণিবিতান ও শিল্প এলাকার উন্নয়ন করা হবে। প্রবাসী ব্যবসায়ীদের বিশেষভাবে সম্পৃক্ত করে নতুন বিনিয়োগ আনা হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশ মানেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এর মাধ্যমে তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং সিলেটের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সিলেটকে একটি প্রাণবন্ত ও ব্যবসাবান্ধব নগরীতে রূপ দেওয়া সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন, সাবেক কাউন্সিলর মজিবুর রহমান শওকতসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
-আহমেদ পাবেল, সিলেট










