আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন সশস্ত্র বাহিনীর তিন প্রধান।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন যৌথভাবে গাজীপুর জেলা পরিদর্শন করেন।
সফরকালে তিন বাহিনী প্রধান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (BRRI) সম্মেলন কক্ষে একটি উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় ঢাকা বিভাগের গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, অসামরিক প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সভায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ছক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পরিদর্শনকালে তিন বাহিনী প্রধান মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। তারা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন: যেকোনো পরিস্থিতিতে বাহিনীর চেইন অফ কমান্ড ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে আইনি কাঠামো অনুযায়ী অর্পিত দায়িত্ব পালন। সাধারণ ভোটার ও নাগরিকদের সাথে ধৈর্যশীল ও সহযোগিতামূলক আচরণ নিশ্চিত করা।
‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। গাজীপুর সফরের মাধ্যমে তিন বাহিনী প্রধান মূলত মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির একটি চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছেন। প্রশাসনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার পাশাপাশি তারা এটি নিশ্চিত করতে চেয়েছেন যে, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। তিন বাহিনী প্রধানের এই যৌথ সফর স্থানীয় প্রশাসনের মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। বিশেষ করে গাজীপুর ও পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলগুলোর স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে তারা কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এই সমন্বিত উদ্যোগ আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচনকে একটি গ্রহণযোগ্য রূপ দিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
–লামিয়া আক্তার










