কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘জনগণের বিজয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগে মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ বহাল রাখার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “ঋণখেলাপি হওয়ার দায়ে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়াটা দেশের সব ব্যাংক ডাকাত ও ঋণখেলাপিদের জন্য একটি চূড়ান্ত বার্তা। আমি যদি নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পারি, তবে এই ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব। তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আজকের আদেশে জালের বিরুদ্ধে মজলুমের জয় হয়েছে। ব্যাংক ডাকাতি করে জনগণের টাকা আত্মসাৎ করে কেউ আর সংসদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারবে না।”
উল্লেখ্য, এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ১৭ জানুয়ারি ইসি সেই আবেদন মঞ্জুর করে মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল করে। ইসির এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মুন্সী হাইকোর্টে রিট করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। আজ রোববার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ তার ‘লিভ টু আপিল’ খারিজ করে দেওয়ায় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নির্বাচনের পথ চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে গেল।
দেবীদ্বারের এই হেভিওয়েট প্রার্থীর বিদায়ে নির্বাচনী সমীকরণ অনেকটাই বদলে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে আদালতে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু ও অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা। মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিলের পর দেবীদ্বার আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।