ইসির সামনে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের অবস্থান-বিক্ষোভ

উপসহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুপারিশ বাতিলের দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা। তারা এই উদ্যোগকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

শনিবার (৩১জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে তারা বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ করেন। পরে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।

‘কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, বর্তমান সরকারের দুই উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি দশম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বিএসসি প্রকৌশলীদের নিয়োগের যে সুপারিশ করেছে, তা বাতিল করতে হবে। এ সুপারিশের মাধ্যমে ডিপ্লোমা ও ডিগ্রি প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এর আগে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল একই দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছেও স্মারকলিপি প্রদান করে।

স্মারকলিপিতে তাদের নয় দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য অন্তত ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করা, তিন বছর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের ৯ম গ্রেডে আবেদনের সুযোগ পুনর্বহাল, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ১০ম গ্রেডের পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের আবেদনাধিকার নিশ্চিত করা এবং জেনারেল ক্যাডারে প্রকৌশলীদের প্রবেশ বন্ধ করা।

এছাড়া ডিপ্লোমা ও ডিগ্রি প্রকৌশলীদের পরিচয় ব্যবহারে সমতা, ক্রেডিট আওয়ার বিবেচনায় উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ, ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা ও কারিকুলাম বিষয়ে আইইবি ও বিএইটিই-এর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব বন্ধ এবং আইডিইবি ঘোষিত যৌক্তিক দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিও জানানো হয়।

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সিয়াম বলেন, ‘আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর পেছনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রয়েছে।

একই প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জিসান হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছেও স্মারকলিপি দিয়েছি। দাবি না মানা হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।’

আন্দোলনকারীরা কারিগরি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা, প্রকৌশল খাতের বৈষম্য নিরসন এবং জাতীয় স্বার্থে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এজাজ আহমেদ