কঙ্গোতে খনি ধসে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রুবায়া কোলটান খনিতে ভয়াবহ ধসে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নর্থ কিভু প্রদেশে বিদ্রোহীদের নিয়োগ করা গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুইসা এই তথ্য নিশ্চিত করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে।

রুবায়া অঞ্চল থেকে বিশ্বের মোট কোলটান উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশ সরবরাহ করা হয়। এই কোলটান প্রক্রিয়াজাত করে ট্যান্টালাম উৎপাদন করা হয়, যা তাপ সহনশীল একটি ধাতু হিসেবে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযান যন্ত্রাংশ এবং গ্যাস টারবাইন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

এই খনিতে স্থানীয় লোকজন প্রতিদিন অল্প কয়েক ডলারের বিনিময়ে হাতে খননকাজ করে থাকেন। খনিটি ২০২৪ সাল থেকে এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বুধবার এই খনিতে ধসের ঘটনা ঘটে।

গভর্নরের মুখপাত্র মুইসা জানান, ভূমিধসের ঘটনায় ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে খনি শ্রমিকদের পাশাপাশি নারী ও শিশুও রয়েছে। কিছু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তাদের অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, অন্তত ২০ জন আহত ব্যক্তি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নর্থ কিভু প্রদেশে বর্ষা মৌসুমে মাটি নরম ও দুর্বল হয়ে পড়ে। খনির গর্তে কাজ করার সময় হঠাৎ মাটি ধসে পড়ায় এই বিপর্যয় ঘটে বলে জানান তিনি।

এদিকে গভর্নরের এক উপদেষ্টা দাবি করেছেন, নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ২২৭ জন। তিনি গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য দেন।

জাতিসংঘের অভিযোগ অনুযায়ী, এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী রুবায়ার খনিজ সম্পদ লুট করে তাদের বিদ্রোহী কার্যক্রমের অর্থ জোগান দিচ্ছে, যা প্রতিবেশী রুয়ান্ডা সরকারের সমর্থনে পরিচালিত হচ্ছে। তবে রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

আফরিনা সুলতানা/