যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে চলমান তদন্তে আরও ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা নথি প্রকাশ করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। এপস্টেইন সংক্রান্ত এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নথি প্রকাশের ঘটনা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের উপ অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, প্রকাশিত নথির মধ্যে রয়েছে দুই হাজারের বেশি ভিডিও এবং প্রায় এক লাখ আশি হাজার ছবি। তবে এসব উপকরণে ব্যাপক সম্পাদনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, বিভিন্ন তদন্ত ও মামলার সময় সংগৃহীত এবং তৈরি করা বিচার বিভাগ ও এফবিআইয়ের ইমেইল, জিজ্ঞাসাবাদের সারসংক্ষেপ, ছবি, ভিডিওসহ নানা ধরনের উপকরণ মিলিয়ে ছয় কোটিরও বেশি পৃষ্ঠা নথি চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ট্রাম্প প্রশাসন এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট মেনে চলার অংশ হিসেবে মোট প্রায় পঁয়ত্রিশ লাখ পৃষ্ঠা নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথির মধ্যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক পর্নোগ্রাফি এবং এপস্টেইনের ডিভাইস থেকে জব্দ করা ছবি রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন চলাকালেই বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে বিপুলসংখ্যক নথি উন্মুক্ত করা হয়।
কংগ্রেসে পাঠানো বিচার বিভাগের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, এসব নথি গত বিশ বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন মূল উৎস থেকে সংগ্রহ করা। এর মধ্যে রয়েছে ফ্লোরিডা ও নিউইয়র্কে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা, গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের বিচার, এপস্টেইনের মৃত্যুর তদন্ত এবং একাধিক এফবিআই তদন্ত।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, যেসব নথি বর্তমানে দেওয়ানি মামলার সুরক্ষা আদেশ বা গ্র্যান্ড জুরি আইনের কারণে গোপন রয়েছে, সেগুলো প্রকাশের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি সে বিষয়ে টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ব্যক্তিগত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, মৃত্যু, শারীরিক নির্যাতন ও আঘাতের দৃশ্যসংবলিত উপাদান এবং শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত এমন তথ্য যা চলমান ফেডারেল তদন্তকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে, সেগুলো গোপন রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, কংগ্রেসের হাউস ও সিনেটের বিচারবিষয়ক কমিটিকে প্রকাশ করা ও গোপন রাখা নথির সব শ্রেণির তালিকা সরবরাহ করা হবে।
কংগ্রেসে পাঠানো চিঠি অনুযায়ী, গোপনীয়তা ও অন্যান্য আইনি সুরক্ষার কারণে প্রায় দুই লাখ পৃষ্ঠা নথি আংশিক বা পুরোপুরি গোপন রাখা হয়েছে।
নতুন নথিতে নতুন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে কি না এমন প্রশ্নে টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে আলাদা করে জানানোর মতো কিছু নেই।
ভুক্তভোগীদের স্বার্থে বিচার বিভাগ একটি বিশেষ ইমেইল ঠিকানা চালু করেছে, যাতে তারা নথির সম্পাদনা নিয়ে আপত্তি জানাতে পারেন। পাশাপাশি কংগ্রেস সদস্যরা গোপনীয়তা চুক্তির আওতায় সম্পাদনাবিহীন অংশ দেখার সুযোগ পাবেন।
এর আগে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারির এক চিঠিতে বিচার বিভাগ স্বীকার করেছিল, তখন পর্যন্ত মাত্র এক লাখ পঁচিশ হাজার পাঁচশ পঁচাত্তর পৃষ্ঠার বারো হাজার দুইশ পঁচাশি নথি প্রকাশ করা হয়েছে, যা আইনে নির্ধারিত সময়সীমার তুলনায় অনেক কম ছিল। তখন জানানো হয়, বিশ লাখের বেশি নথি পর্যালোচনার বিভিন্ন ধাপে রয়েছে।
এর আগে প্রকাশিত নথিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতার চিত্র উঠে আসে এবং কীভাবে কিশোরীদের ফাঁদে ফেলা হতো সে সম্পর্কেও বিস্তারিত সাক্ষ্য পাওয়া যায়।
একটি গ্র্যান্ড জুরি সাক্ষ্যে অভিযোগ করা হয়েছিল, গিলেইন ম্যাক্সওয়েল এক ভুক্তভোগীকে অন্য মেয়েদের আনতে বলেছিলেন এবং বলেছিলেন, তাদের দেখতে যেন কম বয়সী লাগে। তবে ওই ভুক্তভোগী এতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আর কাউকে এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে দিতে চান না।
-সাইমুন










