সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তা পেতে বাড়ল আবেদনের সময়

সড়ক দুর্ঘটনার পর আর্থিক সহায়তা পেতে ট্রাস্টি বোর্ডের কাছে আবেদন করার সময় বাড়ানো হয়েছে। আগে দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাস্টি বোর্ডেও কাছে সহায়তার আবেদন করা যেতো, এখন সেই সময় বাড়িয়ে ৯০ দিন করা হয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। এর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে কার্যক্রমের গত সোমবার উদ্বোধন করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমদ।
প্রসঙ্গত: গত ২৫ জানুয়ারি ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ এ দেওয়া ক্ষমতা বলে সড়ক পরিবহন বিধিমালা ২০২২ সংশোধনের গেজেট প্রকাশ হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় এই পরিবর্তন যুক্ত করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি অথবা নিহতের পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এরপর গত ২৬ জানুয়ারি থেকে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ পেতে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া চালু হয়। আগে এই আবেদন করতে হতো ম্যানুয়ালি, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ঝামেলাপূর্ণ। এখন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি) ব্যবহার করে ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করা যাচ্ছে।
বিধিমালায় ‘আর্থিক সহায়তা প্রদান পদ্ধতি, অনুসন্ধান, আবেদন মঞ্জুর ও প্রদানের সময়সীমা’র বিষয়ে বলা হয়েছে, আর্থিক সহায়তা পাওয়ার নির্ধারিত ফরম অনুযায়ী দুর্ঘটনা সংঘটনের সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করতে হবে।’
এখন বিধিমালয় সংশোধন এনে সর্বোচ্চ সময় ৯০ দিন করা হয়েছে। অর্থাৎ দুর্ঘটনার ৯০ দিনের মধ্যে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে হবে। ট্রাস্টি বোর্ডের আর্থিক সহায়তার বিষয়ে বিধিমালায় বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহত বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ হবে এককালীন কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা। দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গহানি হলে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ হবে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা।
এ ছাড়া গুরুতর আহত এবং চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা না থাকলে আর্থিক সহায়তার পরিমাণও হবে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা। গুরুতর আহত কিন্তু চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকলে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ হবে কমপক্ষে ১ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর। বিআরটিএর তথ্যমতে, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ২ হাজার ৬৪১টি চেক বিতরণ করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে। এর মধ্যে নিহত ২ হাজার ১৯৫ জন, আহত ৩১৬ জন এবং গুরুতর আহত ১৩০ জনের পরিবার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে।
-নিজস্ব প্রতিবেদক