অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়াবে ইসলামী আন্দোলন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে ইশতেহার সাজিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। নির্বাচন সামনে রেখে দেওয়া এই ইশতেহারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ’। রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বত্র শরীয়াহ-র প্রাধান্য দিয়ে প্রতিটা সেক্টরে দুর্নীতি নির্মূলের রূপরেখা সাজিয়ে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করবে দলটি। যার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও তারুণ্যের কর্মসংস্থান বাড়ানোসহ নানা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইশতেহার কমিটি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আসন্ন নির্বাচনে ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’ এর ইশতেহার ও করণীয় ঠিক করতে দেশ ও দেশের বাইরে থাকা শিক্ষক, চিকিৎসক, পলিসি এক্সপার্টসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাজ করেছে। ইশতেহারের মূল লক্ষ্য ৮ টি বিষয়ের ওপর নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়গুলো হলো- রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বত্র শরীয়াহ-র প্রাধান্য, পর্যায়ক্রমিক সংস্কার, জুলাই সনদের প্রতি দায়বদ্ধতা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, তারুণ্যের কর্মসংস্থান, কর্মমূখি বিজ্ঞানভিত্তিক নৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থা, আর্থিক-সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
জানা গেছে, শিক্ষা, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, কাঠামো, পুলিশ, আইন-শৃঙ্খলাসহ সব সেক্টরেই দুর্নীতিই প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ কারণে ইশতেহারের প্রতিটি সেক্টরে কিভাবে দুর্নীতি নির্মূল করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যাবে, তার বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। দলের নেতারা প্রতিদিন পৃথক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এসব বার্তা ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন। ‘জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ’ এই মূল প্রতিপাদ্যের আওতায় বিভিন্ন সেক্টরে নানা প্রতিশ্রুতি থাকলেও সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে সমাজের অনাচার ও দুর্নীতি নির্মূল এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও তারুণ্যের কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দলটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের কোন কোন দল যেখানে নগদ ভাতা বা কার্ডভিত্তিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, সেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দক্ষ করে গড়ে তুলে কর্মমূখী করার আশ্বাস দিচ্ছে। এছাড়া সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারী অধিকার, দূর্নীতি নির্মূল, ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠাসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচির কথা ভাবছে।
রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন, সন্ত্রাস ও দূর্নীতি দমনের পরিবর্তে নির্মূল, ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা, সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা, মানুষের সার্বিক কল্যাণে ধর্ম ও রাজনীতির সমন্বয়, দূর্নীতিবাজ, সন্ত্রাস ও খুনীদের রাজনীতিতে অযোগ্য ঘোষণা, মনোনয়নের ক্ষেত্রে সৎ, চরিত্রবান প্রার্থীদের বিবেচনা, কৃষি ও শিল্প বিপ্লব ঘটিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন, খুন, গুম, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা থেকে জনগণকে মুক্তি, সকল শ্রেণি পেশার মানুষের ন্যায্য অধিকার, নারীদের সমান অধিকারের পরিবর্তে অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা, শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রযোজনী ঋণ, গ্যাস, বিদ্যুত, পানি, সুয়ারেজসহ সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা, কল্যাণকামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও ক্রীড়া, স্বাস্থ্য, ভিক্ষুক পুনর্বাসন, বিজ্ঞান প্রযুক্তি, পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিবন্ধী কল্যাণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করার কথা ইসলামী আন্দোলনের ঘোষিত ইশতেহারে গুরুত্ব পাবে।
ইশতেহার কমিটির অন্যতম সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলদেশ এর কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ। তিনি বলেন, আমাদের একটি টিম ইশতেহার তৈরিতে কাজ করেছে। পুরো ইশতেহারটি জনগণের প্রত্যাশাকে মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে। দলের বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক ও বর্তমান প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং গবেষকদের সমন্বয়ে এসব নীতি প্রণয়নে কাজ করেছেন। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। এতে এমন কোনো বিষয় নেই যা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। অন্যদিকে এর চেয়ে আরো বেশি কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসলামী আন্দোলনের।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সহকারি মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, আমরা যা করতে চাই এবং যা বাস্তবায়নযোগ্য বলে মনেকরি, তাই ইশতেহারে উল্লেখ থাকবে। আমরা আশাবাদী যে, জনগণ হতাশ হবে না। তিনি বলেন, নারী অধিকারের বিষয়ে ইসলাম মা, বোন ও স্ত্রীকে যে মর্যাদা দিয়েছে, আমরা সে অনুযায়ী তাদের ন্যায্য অধিকার দিতে চাই। যাতে তারা নিজ নিজ অবস্থানে সর্বোচ্চ মর্যাদার নিয়ে বসবাস করতে পারে।
বায়েজীদ মুন্সী