খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সংঘটিত একটি সাজানো অপহরণ নাটক শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি বর্তমান যুব সমাজের এক ভয়াবহ বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি যেখানে বিলাসী জীবনযাপন ও প্রযুক্তি আসক্তির নেশায় অপরাধকেও তুচ্ছ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কলেজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজের নাটক সাজানো মো. মুরাদ হোসেন (১৯) পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। অথচ পরে সেনাবাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হওয়ার পর সে নিজেই স্বীকার করে আইফোন ও মোটরসাইকেল কেনার লোভেই এই পরিকল্পিত অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছিল।
পরিবারের দুশ্চিন্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সময় ও শ্রম, সামাজিক আতঙ্ক সবকিছুকেই তুচ্ছ জ্ঞান করে একজন তরুণ কীভাবে অপরাধকে ‘সহজ সমাধান’ হিসেবে বেছে নেয়, এ ঘটনা তারই জ্বলন্ত উদাহরণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্মার্টফোন ও বিলাসপণ্যের প্রতি অন্ধ আকর্ষণ অনেক তরুণকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রদর্শনবাদী জীবনযাপনের প্রভাব তরুণদের মধ্যে দ্রুত বড় হওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করছে, যার ফল হিসেবে তারা অপরাধকেও খেলাচ্ছলে নিচ্ছে।
দীঘিনালা জোনের সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা তৎপরতা ও দ্রুত অভিযানে যুবককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ঘটনাটি সমাজের জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। সচেতন মহলের মতে, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করে তরুণদের নৈতিক শিক্ষা ও বাস্তব জীবনের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে।
মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি










