বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে ১৩ তারিখ থেকেই দেশ থেকে চাঁদাবাজি চিরতরে নির্মূল করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “চাঁদাবাজদের দমনে আমরা সেদিন প্রয়োজনে নির্দয় ও নিষ্ঠুর হব। কারো মুখের দিকে তাকানো হবে না।”
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলনের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যুবকদের হাতে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলবো। যুবকদের কারণেই আজ আমরা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, দেশের যুবসমাজকে কেউ চাঁদাবাজ, দখলবাজ বা অস্ত্রবাজ বানাবে—তা সহ্য করা হবে না। বরং তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলে সম্মানের কাজ নিশ্চিত করা হবে।
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের প্রশংসা করে জামায়াত আমির বলেন, গত ২৮ তারিখ এখানকার ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের হাতেনাতে শিক্ষা দিয়ে যে সাহস দেখিয়েছেন, তা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণেই কৃষকের সস্তা পণ্য ঢাকায় এসে তিন-চার গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়। এতে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “রাজনীতির সাথে চাঁদাবাজির সম্পর্ক কী? এটি তো স্রেফ দুর্বৃত্তপনা।”
দলের অতীত কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত পরিচালিত দুটি মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ছিল। তিনি দাবি করেন, “৫ই আগস্টের পর আমরা কারো ওপর প্রতিশোধ নিইনি, একটি মিথ্যা মামলাও দিইনি। আমাদের কর্মীরা আল্লাহকে ভয় করে বলেই তারা চাঁদাবাজি বা দখলবাজিতে জড়ায় না।”
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এখনো পর্যন্ত আলামত ভালো নয়। মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আপনারা ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্বাচনের কথা বললেও জনগণ এখনো আশ্বস্ত হতে পারেনি।” তিনি কমিশনকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “মুখে গণতন্ত্রের কথা না বলে গণতন্ত্রের পথে হাঁটুন। নিজ নিজ কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যান, জনগণ যাকে খুশি তাকে বেছে নেবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে এবং “হারলে ফল মানি না”—এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।