ক্ষমতায় গেলে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, ঘুষ, চাঁদাবাজি বন্ধ করে ব্যবসাবান্ধব রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য পাহারাদারের ভূমিকা পালন করবে জামায়াত।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংলাপে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। ‘সমৃদ্ধির সংলাপ: বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য কৌশলগত ভাবনা’ শীর্ষক সভায় ব্যবসায়ীরা তাদের সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেন।
‘বাংলাদেশের জন্য ব্যবসাবান্ধব অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমির অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।
হালকা শিল্পই ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান তৈরি করবে- এই পরামর্শ দিয়ে আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, এই খাতে জোর দিতে হবে। হালাল শিল্প, প্যাকেজিংয়ে যেতে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশ এখনও স্বল্প উন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে যেতে এখনও প্রস্তুত নয়।
জামায়াত আমিরকে উদ্দেশ্য করে এ কে আজাদ বলেছেন, সরকার চাইলে লালফিতার দৌরাত্ম্য পায়ের নীচে থাকবে। বাণিজ্যমন্ত্রী স্বাধীন হলে দ্রব্যমূল্য কমে কী না দেখেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাধীন হলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। কিন্তু কোনো সরকারের সদিচ্ছা দেখা যায় না।
ব্যাংক ঋণ সহজ করার পরামর্শ দিয়ে এ কে আজাদ বলেন, বেসরকারি খাত ব্যাংক থেকে মাত্র ৬ শতাংশ ঋণ পায়। সরকার ঋণ নিয়েছে ২৭ শতাংশ। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঋণ না পেলে, কর্মসংস্থান কীভাবে হবে? যারা ব্যাংকের টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করেছে, অবশ্যই তাদের বিচার করতে হবে। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগের জন্য জন্য ঋণ দিতে হবে।
জ্বালানি সংকটের কথা তুলে ধরে এ কে আজাদ বলেন, গ্যাস নেই। পাঁচ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়া রয়েছে। গ্যাস না থাকায় দেশীয় ব্যবসায়ীরাই রক্ষা পাচ্ছে না। বিদেশি বিনিয়োগ কোথা থেকে আসবে? একজন ব্যবসায়ী গ্যাস না থাকায় কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
ওষুধ শিল্প ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীদের সম্মান দেওয়া হয়। যে যখন সরকারে থাকে, ব্যবসায়ীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হবে। আর কিছু নয়, শুধু নীতি সহায়তা চাই।
আঞ্চলিক ব্যবসা বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে মনে করেন জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, সার্ক অঞ্চলের দেশগুলোর মোট ব্যবসার মাত্র ৫ শতাংশ হয় নিজেদের মধ্যে। এই ব্যবসা বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
জামায়াত আমির বলেন, দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে জামায়াত ঘুষকে ‘স্পিড মানি’ নামে বৈধ করার সংস্কৃতি বন্ধ করবে। চাঁদাবাজেরা ব্যবসায়ীদের ঘুম হারাম করে। নির্ধারিত সময়ে কারখানা চালু করা না গেলে ব্যাংক ঋণের সুদ চলতে থাকে। এতে উদ্যোক্তা শুরুতেই ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ পরিস্থিতি চিরতরে বদলাতে হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, ঘুষের কারণে দেশি ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা ও সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন না। দেশি বিনিয়োগকারীরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে কেন—এ প্রশ্ন রাষ্ট্রকে আগে সমাধান করতে হবে।
জামায়াত আমির ঘোষণা দেন, বিদেশে পাচার করা সম্পদ সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেওয়া হবে। কাউকে অপমান করার জন্য নয়, এর উদ্দেশ্য জাতির কল্যাণ। যারা অর্থ ফেরত দেবেন, রাষ্ট্র তাদের সম্মান দেবে।
সভায় জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বক্তৃতা করেন।
-সাইমুন










